শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম মুক্তমতবাংলাদেশ সহ বর্তমান বিশ্বে সকল মুসলমান একই দিনে ঈদ ও রোজা পালনের...

বাংলাদেশ সহ বর্তমান বিশ্বে সকল মুসলমান একই দিনে ঈদ ও রোজা পালনের অপরিহার্যতা

মুফতি ইলিয়াস

বাংলাদেশ সহ বর্তমান বিশ্বে সকল মুসলমান একই দিনে ঈদ ও রোজা পালনের অপরিহার্যতা এবং এ ব্যাপারে বাস্তব সিদ্ধান্ত নেয়া প্রসঙ্গে। আমার কথাগুলো বুঝার স্বার্থে কোলকাতার লিপি রায়ের একটি লিখা হুবহু তুলে ধরলাম। লিপি রায় মোসলমান এবং হিন্দুদের মধ্যে পার্থক্য বোঝানোর জন্য বাস্তব যে চিত্র তুলে ধরেন তা হলো-

(১) কেউ যদি ভারতের মহারাষ্ট্রের কোন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করে তোমাদের সবচাইতে বড় “ভগবান” কে? সে উত্তর দিবে “গনেশ”

(২) যদি দিল্লীর কোন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের বড় ভগবান কে? সে উত্তর দিবে “রাম”

(৩ ) যদি গুজরাটের কোন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের ভগবান কে? সে উত্তর দিবে “কৃষ্ণ

(৪) যদি বাংলার কোন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের বড় ভগবান কে? সে উত্তর দিবে “দূর্গা” অর্থাত্ একেক রাজ্যে একেক জন ভগবান! কিন্তু গোটা দুনিয়ার যে কোন জায়গায় যে কোন মোসলমানকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের “রব” কে? তারা একবাক্যে উত্তর দিবে “আল্লাহ্” , যদি প্রশ্ন করা হয় তোমাদের রাসুল বা নবী কে? তারা উত্তর দিবে নবী মোহাম্মদ (স:)।

এবার উল্টো ভাবে চলে আসি-

(১) যদি গোটা দুনিয়ার যে কোন জায়গার যে কোন স্থানের খ্রিস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়, তোমাদের বড় দিন কোন তারিখে ? তারা উত্তর দিবে ২৫ শে ডিসেম্বর এবং সেই সাথে একই দিনের কথা উল্লেখ করবে।

(২) যদি গোটা দুনিয়ার কোন হিন্দুকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের দুর্গাপূজা কত তারিখে এবং কোন দিনে ? তারাও কিন্তু একই তারিখ এবং একই দিনের কথা উল্লেখ করবে ।

(৩) যদি গোটা দুনিয়ার কোন বৌদ্ধ এবং ইহুদিকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান কত তারিখে এবং কোন দিনে ? তারাও কিন্তু একটি নির্দিষ্ট তারিখ এবং একটি নির্দিষ্ট দিনের কথাই বলবে । কিন্তু যদি বিশ্বের কোন মুসলমানকে জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের রোজা ও ঈদ কোন তারিখে এবং কোন দিনে? তখন কিন্তু তারা হিন্দুদের দেবতার মতো একেক দেশে একেক তারিখ এবং ভিন্ন ভিন্ন দিনের কতা উল্লেখ করবে। অর্থাত্ পূর্ব প্রাচ্য, মধ্য প্রাচ্যে এবং পশ্চিমা বিশ্বের রমজান মাসের ১ তারিখ যদি হয় শুক্রবার, তখন শুধু মাত্র বাংলাদেশ ভারত এবং পাকিস্তানের কিছু অংশে রমজানের ১ তারিখ বলবে শনিবার, কখনো কখনো রবিবারও হতে পারে। একই ভাবে শবে কদর, এবং ঈদের দিনের কথা বলবে ভিন ভিন্ন দিনে । মাসের একই তারিখ একেক দেশে একেক দিন! কোন দেশে শুক্রবার আবার কোন দেশে শনিবার ।

শুধু তাই নয়,বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্যই ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম কিন্তু দিনের ভিন্নতার কারনে একজন মোসলমানের জন্য রোজা রাখা হারাম আবার অন্য মোসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। পৃথিবীর মালিক যিনি চাঁদের মালিকও তিনি, বিশ্বপরিমণ্ডলে ভৌগলিক কারনে ঘন্টার ব্যবধান হতে পারে, যেমনি ভাবে একই তারিখে নামাজের সময়ের ভিন্নতা রয়েছে। আর সবচাইতে বড় কথা হলো দিন অথবা রাত্র নির্ধারণ করা হয় ২৪ ঘন্টার একটি তারিখের কিছু সময় বা অংশ নিয়ে। কিন্তু একটি পূর্নাঙ দিন নির্ধারণ করা হয় ২৪ ঘন্টার সময় নিয়ে।

কয়েক ঘন্টার ব্যবধান একটি পূর্ণাঙ্গ দিনকে পরিবর্তন করতে পারে না। কয়েক ঘন্টায় দিনের ব্যবধান বর্তমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশ্বে হিন্দুদের একেক দেশের একেক দেবতার মতোই অদ্ভুত এবং হাস্যকর। সুতরাং বর্তমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোন আদা মৌলবির খোরা যুক্তি দিয়ে বর্তমান উন্নত যোগাযোগের বিশ্বে ঈদ ও রোজার ভিন্ন ভিন্ন তারিখ কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। তাই বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করছি আগামী কোরবানির ঈদ বিশ্বের যে কোন জায়গায় চাঁদ ওঠার খবর পাওয়া সাপেক্ষে গোটা বিশ্বে একই দিনে ঈদের নামাজ আদায় করার সিদ্ধান্তের কথা এখনই দেশ বাসীকে জানিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

[লেখকঃ এভিপি এবং ম্যানেজার, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, মিরপুর-১০ শাখা, ঢাকা]

**মতামতের জন্য সম্পাদক / প্রকাশক দায়ী নয়

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular