গ্রামীণ কৃষি ডেস্কঃ রামাদানে শয়তানবন্দী বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, শয়তানকে বন্দী করার পরেও কেন অনেক লোকেরা সারা বছরের মতোই পাপাচারে লিপ্ত থাকে?
■ প্রথম কারণ
মানুষ সকল পাপকাজ শুধুমাত্র শয়তানের প্ররোচনায় করে, বিষয়টা এমন নয়। মানুষ খারাপ কাজ করে মূলত দুটি কারণে―(১) নফসে আম্মারা ( نفس أمارة ) বা, কু-প্রবৃত্তির কারণে।(২) শয়তানের প্ররোচনায়।রামাদানে শয়তান বন্দি থাকলেও কু-প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। আর, মন্দ নফসের প্ররোচনায় মানুষ পাপ করে থাকে। [ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ৪/১১৪] ■ দ্বিতীয় কারণ ■রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “রমজানে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করা হয়।” [বুখারী, হা/১৮৯৯]হাদিসে “মারাদাতুশ শায়াতিন (مراداتوش شياطين)” শব্দ এসেছে। যার অর্থ― “অতিরিক্ত দুষ্ট বা, নেতা পর্যায়ের শয়তান”-দের বন্দি করা হয়। কিন্তু, ছোট শয়তানরা মুক্ত থাকে এবং মানুষকে মন্দকাজে প্ররোচনা দেয়। [ইমাম কুরতুবী, আল মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীসি কিতাবি মুসলিম: ৩/১৩৬]রামাদানে কিছু মানুষ অন্যান্য বছরের মতই পাপাচারে ডুবে থাকার এটাই মূল কারণ। যারা রামাদানে ইবাদাতে মশগুল থাকে, শয়তানকে তাদের থেকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু যারা রামাদানের দিকে কোন প্রকার ভ্রূক্ষেপই করে না তারা মূলত “নফসে আম্মারা”র গোলামে পরিণত হয়েছে।
আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়:
■ মূলত মানুষের নফস একটাই ৷ কিন্তু পবিত্র কোরআনে নফসের তিনটি রূপ উল্লেখ করা হয়েছে, যথাক্রমে–১) নফসে আম্মারা ( نفس أمارة ): এই নফস মানুষকে খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করে। ۞ إِنَّ ٱلنَّفْسَ لَأَمَّارَةٌۢ بِٱلسُّوٓءِ”নিশ্চয় মানুষের নফস মন্দ-কর্মপ্রবণ।” [সূরা ইউসুফ, ৫৩]২) নফসে লাউয়ামাহ ( نفس لوامة): যে নফস ভুল বা অন্যায় কাজ করলে লজ্জিত হয়। ۞ وَلَآ أُقْسِمُ بِٱلنَّفْسِ ٱللَّوَّامَةِ”শপথ সেই নফসে’র, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়।” [সূরা কিয়ামাহ, ০২]৩) নফসে মুতমাইন্নাহ’( نفس مطمئنة): আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী নফস। ۞ يَـٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ۞ ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً”হে নফসে মুত্বমাইন্নাহ(প্রশান্ত মন),তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও রদ্বিয়ান (সন্তুষ্ট) ও মারদ্বিয়্যান (সন্তোষভাজন) হয়ে।” [সুরা আল ফজর, ২৭-২৮] …।।
তথ্য সূত্রঃ ভাবনার মোহনায় রামাদান-০৪।।মোহাম্মদ আল ফাতেহ।
