– আকমল হোসেন, সহ: অধ্যাপক
যাকাত নিয়ে খুবই সহজ ভাষায় লিখার চেষ্টা করব। লেখার আগে একটি কথা বলে নেয়া ভাল, আমি কোন ইসলামী স্কলার নই। তবে অনার্সে অর্থনীতি পড়ার সময়ে একজন মুসলিম হিসেবে কোরআন-হাদীস অর্থসহ এবং ইসলামী স্কলারদের বই পড়ার সুযোগ হয়েছিল। এখনও চর্চা আছে। যাকাত মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক, তা কোরআন-হাদীস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, তা সবাই জানে, তাই আলোচনায় কোরআন-হাদীসের আয়াত উল্লেখ না করে যাকাত কীভাবে হিসাব করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছি –
(১) নিসাব পরিমাণ সম্পদ ১ বছর জমা থাকলে আপনি যাকাত প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।
(২) এখন প্রশ্ন হলো নিসাব অর্থ কী? নিসাব অর্থ হলো সর্বনিম্ন পরিমাণ সম্পদ। এক্ষেত্রে স্বর্ণের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো সাড়ে ৭ তোলা এবং রূপার হলো সাড়ে ৫২ তোলা।
(৩) যদি নগদ অর্থ থাকে, তবে তা সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্যের সমান হলে যাকাত বাধ্যতামূলক হবে।
(৪) যদি স্বর্ণ সাড়ে ৭ তোলার কম, রূপা সাড়ে ৫২ তোলার কম, নগদ অর্থ সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্যের কম হয়, তবে কী করতে হবে?এক্ষেত্রে তিনটির মূল্য যোগ করে দেখতে হবে, তা সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্যের সমান হয় কিনা। যদি সমান হয়, তবে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক হবে। যদি স্বর্ণ ও রূপা থাকে, তাহলেও দুটি যোগ করে রূপার নিসাবের সাথে তুলনা করতে হবে।
(৫) সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। দুটি নিসাবের মধ্যে এত পার্থক্য কেন? যখন যাকাত বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তখন সাড়ে ৭ ভরি সোনা এবং সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য প্রায় সমান ছিল। এখন এদের মূল্যের ভিতর যথেষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। দরিদ্রদের কথা ভেবে ইসলামী চিন্তাবিদরা সোনা, রুপা এবং নগদ অর্থের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাড়ে ৫২ তোলা রূপাকে নিসাব ধরেছেন। তবে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশভেদে শরীয়াহ বোর্ড সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিসাব স্বর্ণ দিয়ে হবে, না রূপা দিয়ে হবে। তবে শুধু স্বর্ণ থাকলে অবশ্যই স্বর্ণ দিয়ে এবং শুধু রূপা থাকলে অবশ্যই রূপা দিয়ে নিসাব হবে, এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই।
(৬) এখন আসুন আপনার কাছে ১০ ভরি সোনা আছে। ১০ ভরি সোনার মূল্য কত ধরবেন? বাজারে স্বর্ণ ক্রয় করতে গেলে প্রতি ভরি ৬০ হাজার টাকা (ধরি) প্রদান করতে হবে এবং বিক্রয় করতে গেলে ৫০ হাজার টাকা (ধরি) পাবেন। এখন প্রশ্ন হলো স্বর্ণের কোন মূল্য আপনি ধরবেন? অবশ্যই ৫০ হাজার টাকা ধরতে হবে। কারণ আপনার সম্পদ স্বর্ণের মূল্য ভরি প্রতি ৬০ হাজার টাকা নয়, বরং ৫০ হাজার টাকা। কারণ বাজারে বিক্রয় করলে আপনি ভরি প্রতি ৫০ হাজার টাকা পাবেন। অর্থাৎ ১০ ভরি স্বর্ণের কারণে আপনি ৫ লক্ষ টাকা সম্পদের মালিক এবং এই ৫ লক্ষ টাকার উপর আপনি যাকাত দেবেন। কেউ আপনাকে ৬০ হাজার টাকা ভরি ধরে ৬ লক্ষ টাকার উপর যাকাত দিতে বলতে পারেন। তাকে আপনি প্রশ্ন করুন –(ক) ৬০ হাজার টাকা হলে ১০ ভরিতে ৬ লক্ষ টাকা, যাকাত দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ দরিদ্র ব্যক্তি পাবে ১৫ হাজার টাকা।(খ) ৫০ হাজার টাকা হলে ১০ ভরিতে ৫ লক্ষ টাকা, যাকাত দিতে হবে ১২ হাজার পাঁচশত টাকা। অর্থাৎ দরিদ্র ব্যক্তি পাবে ১২ হাজার পাঁচশত টাকা।(গ) আপনি টাকা না দিয়ে দরিদ্র ব্যক্তিকে ১০ ভরি স্বর্ণের ২.৫% অর্থাৎ .২৫ ভরি স্বর্ণ দিয়ে দেন। এই .২৫ ভরি স্বর্ণ দরিদ্র ব্যক্তি ৫০ হাজার না ৬০ হাজার টাকা ভরিতে বিক্রয় করতে পারবে? সোজা উত্তর হলো আপনি যখন বিক্রয় করবেন, তার মূল্য বাজারের মূল্য হতে কম হবে, অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা হবে। তাহলে দরিদ্র ব্যক্তি .২৫ (দশমিক ২৫ ভরি) ভরি স্বর্ণ বিক্রয় করে কত পাবে? হিসাবে করে দেখুন .২৫* ৫০,০০০ হাজার = ১২,৫০০ টাকা।(ঘ) ”খ” এর সাথে “গ” মিলে। অর্থাৎ স্বর্ণ বা রূপার মূল্য হিসাব করার সময় আপনাকে দেখতে হবে, এগুলো আপনি স্বর্ণাকরের কাছে বিক্রয় করলে কত টাকা পাবেন।
(৭) নিসাব পরিমাণ সম্পদ আপনার হাতে ১ বছর ধরে থাকতে হবে। বছরের মাঝখানে এটি কমে গিয়ে যদি হিসাবের দিন নিসাবের সমান হয়ে যায়, তবে আপনাকে যাকাত দিতে হবে।
(৮) যাকাতের হিসাবে আপনার মাসিক সঞ্চয় স্কীম, মেয়াদী জমাসহ ইত্যাদি ব্যাংক জমা আসবে। হাতে নগদ টাকাও হিসাবে আসবে। প্রতি বছর একই টাকার উপর বারবার যাকাত আসে। ধরুন ৫ লক্ষ টাকা ৩ বছর ধরে আপনার কাছে আছে, ৩ বছরই ঐ টাকার উপর যাকাত দিতে হবে। এমনকি সম্পদ হিসাবের দিন ১ লক্ষ টাকা আপনার কাছে আসল, আপনাকে ঐ ১ লক্ষ টাকার উপরও যাকাত দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ঐ ১ লক্ষ টাকা ১ বছর থাকা শর্ত নয়, বরং নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকা শর্ত। যাকাত বাধ্য করে আপনার সম্পদকে গতিশীল রাখতে। এজন্য প্রতি বছর 2.5% কমে যাবে বলে আপনি নিজে অথবা কোম্পানির মাধ্যমে বা ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হবেন। আর বিনিয়োগ সম্পদ বাড়ায়। অর্থাৎ বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক কনে যাকাত সম্পদ বাড়ায়।
(৯) শেয়ারের মূল্য যাকাতের হিসাবে আসতে পারে, আবার নাও আসতে পারে-(ক) শেয়ার যদি ক্রয় করা হয়, সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রয় করে আয় করা জন্য, তবে যাকাত হিসাবের দিন শেয়ার এর বাজার মূল্য যাকাতের হিসাবে আসবে।(খ) যদি শেয়ার ক্রয় করা হয়, কোম্পানির ডিভিডেন্ট (মুনাফা) এর জন্য, সেকেন্ডারি বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নয়, তবে কোম্পানি যাকাত দিলে, আপনার যাকাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কোম্পানি যাকাত না দেয়, তবে আপনাকে জানতে হবে, কোম্পানির যাকাত অযোগ্য স্থায়ী সম্পদ কতটুকু। মনে করুন স্থায়ী সম্পদ ৪০% হলে আপনি আপনার শেয়ারের প্রাইমারি মূল্য হতে ৪০% বাদ দিয়ে যাকাত দেবেন। কারণ স্থায়ী সম্পদের উপর যাকাত নেই।
(১০) সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের যে টাকা বাধ্যতামূলকভাবে কাটেন, তা যাকাতের হিসাবে আসবে না। কিন্তু বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত কাটলে সেই অতিরিক্ত অংশ যাকাতের হিসাবে আসবে। কারণ বাধ্যতামূলক কর্তন এর অংশ আপনার মালিকানায় আসেনি। কিন্তু স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কর্তন আপনার মালিকানায় থাকার পর সরকারকে প্রদান করেন, যা যাকাতের হিসাবে আসবে। যেভাবে ব্যাংকের ডিপিএস আপনি স্বেচ্ছায় দেন, যা যাকাতের হিসাবে আসে।
(১১) বেসরকারি চাকুরিজীবিদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাধ্যতামূলক অংশ যদি থাকে, তবে তা যাকাতের হিসাবে আসবে না। নিয়োগকর্তার প্রদত্ত চাঁদা যাকাতের হিসাবে আসবে না। তবে কাটা ঐচ্ছিক হলে যাকাতের হিসাবে আসবে।
(১২) কারো কাছে যদি টাকা পাওনা থাকে এবং এটি পাবেন, তা মোটামোটি নিশ্চিত, তবে তার যাকাত দিতে হবে। যদি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তবে যাকাত দিতে হবে না। যদি এই টাকা ৩ বছর (ধরি) পর পাওয়া গেল, তবে বিগত বছরের যাকাত একসাথে আদায় করে নিতে হবে।
(১৩) দেনা যাকাতের হিসাব হতে বাদ দিতে হবে। তবে সবসময় নয়। কারণ –(ক) ধরুণ আপনি হিসাব করলেন আপনার সম্পদের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা এবং দেনা ১০ লক্ষ টাকা। আপনি যদি এই দেনা ১০ লক্ষ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ৫০ লক্ষ টাকা হতে দেনা ১০ লক্ষ টাকা বাদ দিতে হবে।(খ) যদি ১০ লক্ষ টাকা দেনা মাসিক ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেন, তবে ১ টাকাও দেনা বাদ দিতে পারবেন না। অবশ্য যে দিন (ধরি রমযানের ১ তারিখ) সম্পদ হিসাব করছেন, সেইদিন যদি কিস্তি ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়, তবে সম্পদের পরিমাণ হতে ২৫ হাজার টাকা বাদ দিতে পারবেন। (গ) যখন কোন ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়, তখন তা প্রাত্যহিক ব্যয় বা মাসিক ব্যয়ের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। যেমন আপনি মাসে ২৫ হাজার টাকা কিস্তি প্রদান করার কারণে বছরে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করছেন। পরবর্তী বছর যাকাতের হিসাবে আপনার সম্পদের পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কারণে ৩ লক্ষ টাকা কমে গেল। এভাবে পর্যায়ক্রমে আপনার সম্পদের পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কারণে কমবে এবং আপনার যাকাতের পরিমাণ কম আসবে। যে ১০ লক্ষ টাকা আপনি যেখানে কিস্তিতে পরিশোধ করছেন, তা কেন একসাথে সম্পদের পরিমাণ হতে বাদ দিবেন? অতএব এখানে “খ” প্রযোজ্য, যারা বাদ দিবেন, তারা যাকাত অনাদায়ের কারণে আল্লাহর কাছে কঠিন হিসাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।(ঘ) কারো কারো মতে ১ বছরের কিস্তির টাকা অর্থাৎ ৩ লক্ষ টাকা যাকাতের হিসাব হতে বাদ দিতে হবে। কিন্তু “গ” এর কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাদ দেয়ার পক্ষে নেই। আপনি ত ১২ মাসের কিস্তি তাৎক্ষণিকভাবে দিচ্ছেন না।
(১৪) স্থায়ী সম্পদ যেমন বাড়ি-ঘর, টিভি, ফ্রিজ, গাড়ি ইত্যাদি যাকাতের হিসাবে আসবে না।
(১৫) নিজ দোকান ঘর, কারখানার মূল্য, যন্ত্রপাতির মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। তবে দোকানে বা কারখানায় জমা দ্রব্য বা কাঁচামালের উপর ২.৫% যাকাত আসবে। ধরুন আপনার দোকানে ১০ লক্ষ টাকার (ক্রয় মূল্যের ভিত্তিতে, বিক্রয় মূল্যে নয়) কাপড় আছে, তবে আপনাকে ২.৫% ধরে ২৫ হাজার টাকা যাকাত প্রদান করতে হবে।
(১৬) আপনার যদি কৃষি জমি থাকে, তবে ফসল যতবার উঠবে ততবারই যাকাত (ওশর) দিতে হবে। তবে শাক-সব্জি এ ধরনের পণ্যের উপর যাকাত নেই।(ক) সর্বনিম্ন ৭৫০ কেজি বা প্রায় ২০ মণের নিচে যাকাত নেই।(খ) বৃষ্টির পানিতে উৎপাদন হলে মোট ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০০ মণ ধান উৎপাদন হলে ১০০ মণ ধান যাকাত দিতে হবে।(গ) সেচের মাধ্যমে উৎপাদন হলে ২০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০০ মণ ধান উৎপাদন হলে ৫০ মণ ধান যাকাত দিতে হবে।
(১৭) আমাদের দেশে ফসলের যাকাতের কোন গুরুত্ব নেই এবং এটি আদায় হয় না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, ফসলের যাকাতও বাধ্যতামূলক। সুরা আল-আনয়াম এর ১৪১ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা ফসল তোলার দিনে তার হক আদায় কর।” সুরা বাকারার ২৬৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদার লোকেরা তোমরা নিজেরা যা অর্জন করেছ, সে পবিত্র (সম্পদ) হতে এবং আমি যা জমীনের ভিতর হতে তোমাদের জন্য বের করে এনেছি তার থেকে একটি উৎকৃষ্ট অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর।” যেহেতু ফসলের যাকাত সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম, তাই এখানে কোরআন হতে রেফারেন্স দিলাম। এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। বৃটিশদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর এবং পরবর্তীতে উপমহাদেশের মুসলিমরা ইসলামী জ্ঞানে পিছিয়ে থাকার কারণে আমরা ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকি। তাই ফসলের যাকাত না দিলে যে জাহান্নামের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, তা আজ আমাদের স্বরণে নেই।
(১৮) গরু-মহিষ-ছাগলেরও যাকাত দিতে হবে। তবে শর্ত হলো এগুলো অধিকাংশ সময় চারণ ভূমিতে চড়ে খায়, অর্থাৎ এদের খাওয়া বাবদ তেমন একটি খরচ করতে হয় না। এখন খামারের গরুর উপর যাকাত আছে কিনা, এ নিয়ে দ্বিমত আছে। (ক) গরুর সংখ্যা ২৯টি হলে যাকাত নেই।(খ) প্রতি ৩০ গরুর জন্য ১টি ১ বছর শেষ এমন গরুর যাকাত দিতে হবে।(খ) প্রতি ৪০টি গরুর জন্য ২ বছরের একটি গরু যাকাত দিতে হবে। (গ) মহিষের ক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য।(ঘ) ৪০ টি হতে ১২০ টি ছাগলের জন্য ১টি ছাগল যাকাত দিতে হবে।(ঙ) ১২১ হতে ২০০টি ছাগল থাকলে ২টি ছাগল যাকাত দিতে হবে।(চ) ২০১ হতে ৩০০ টি হলে ৩টি ছাগল এবং এর পর প্রতি ১০০ টি ছাগল পূর্ণ হলে অতিরিক্তি ১টি ছাগল যাকাত দিতে হবে।
(১৯) যারা ১ম যাকাত দিচ্ছেন, তাদের বর্তমান রমযান মাসেই নিসাব পরিমাণ বা তার উপরে সম্পদ থাকলেই যাকাত দিতে হবে এমন কোন কথা নয়। বরং শর্ত হলো বিগত রমযান মাসে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে ১ বছর শর্ত পূরণ হয়ে যাবে। তবে মাঝখানে সম্পদ নিসাবের নীচে গেলেও কোন অসুবিধা নেই। হিসাবের তারিখ যে পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপর যাকাত দিতে হবে। আর একবার যাকাত দিলে প্রতি বছরই দিতে হয়। কারণ সাধারণত সম্পদ কমে না, বরং বাড়ে।
(২০) রাসুল (সাঃ) এবং খলীফাদের সময় যাকাত ছাড়াও অন্যান্য কর দিতে হত। তাই যারা বলবেন, আমরা ত আয়কর দেই, যাকাত দেব কেন? আশা করি তারা প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। উল্লেখ্য যে, যাকাত ব্যয়ের খাত নির্দিষ্ট এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি দরিদ্রদের জন্য।
(২১) ইসলামের ১ম খলীফা আবু বকর (রাঃ) এর সময় একটি গ্রুপ যাকাত প্রদান করতে অস্বীকার করলে, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। হযরত উমর (রাঃ) বললেন, তারা ত মুসলিম। আবু বকর (রাঃ) বললেন, তারা যাকাত অস্বীকারকারী অর্থাৎ কোরআন অস্বীকারকারী। হযরত উমর (রাঃ) তখন সাথে সাথেই হযরত আবু বকর (রাঃ) সাথে একমত হয়ে যান। আশাকরি আমরা মুসলিমরা যাকাতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছি।
(২২) আপনার যদি ১০ ভরি সোনা থাকে, তবে বাজার মূল্য ৫ লক্ষ টাকা হয়, অন্যান্য সঞ্চয় ৩৫ লক্ষ টাকা হয়, তবে ৪০ লক্ষ টাকার উপর ১ লক্ষ টাকা যাকাত দিতে হবে। যেহেতু সরকার এ বিষয়ে সরাসরি কোন দায়িত্ব নিচ্ছে না , সেহেতু আপনি –(ক) ৪ জন বয়স্ক মানুষকে মাসে ১ হাজার করে ৪ হাজার অর্থাৎ ১২ মাসে ৪৮ হাজার টাকা দিতে পারেন। অর্থাৎ প্রতি মাসের ৫ তারিখের ভিতর প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে দেন। কারণ এসমস্ত বয়স্ক দরিদ্র লোকদের দেখার মত কেউ নেই।(খ) বাকী ৫২ হাজারের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা দুজন ব্যক্তিকে ভাগ করে দেন, ব্যবসায় পূজির জন্য। এদেরকে পরবর্তী বছর না দেয়ার চেষ্টা করবেন।(গ) বাকী ২৭ হাজার টাকা হাতে রাখেন। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে দরিদ্র ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য।(ঘ) যাকাতের বাইরেও আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার চেষ্টা করুন।।
(২৩) শরীয়াহ বোর্ড অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে, নিসাব কত হবে? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি নিসাব স্বর্ণ হওয়াটাই উত্তম। কারণ তখন নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ মিলে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার হলে যাকাত দিতে হবে এবং অনেক অভাবী লোক যাকাত গ্রহণের মধ্যে পড়বে।
কিন্তু আমি যেহেতু কোন ইসলামী স্কলার না, সেহেতু আমার ব্যক্তিগত মত প্রচার করতে পারি না। কোন ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং সর্ব জ্ঞানী।
