এম. জুলফিকার আলী ভুট্টো, খাগড়াছড়িঃ পার্বত্য অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় কৃষক মাঠ স্কুল কর্তৃক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
সাধারণ মডিউল থেকে ৬টি সেশন কৃষক-কৃষানীদের মাঝে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করা হয়।
১. বিভিন্ন সারের কাজ, অভাবজনিত লক্ষণ ও ভালো (গুণগত) সার চেনার উপায়।
২. খামারজাত সার প্রস্তুতি ও ব্যবহার।
৩. ভার্মি কম্পোস্ট ও সবুজ সার তৈরি ও ব্যবহার।
৪. খামার ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ (এফ এম এ)
৫. বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব ও ঝুঁকি হ্রাসের উপায়।
৬. বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কৌশল (সবজি ও ধান) এই সেশনে কৃষক-কৃষাণীদের বিভিন্ন ধরনের সারের কাজ সম্পর্কে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ মাধ্যমে জানানো হয়।
জৈব সার কি? রাসায়নিক সার কি? জৈব সারের কাজ কি? রাসায়নিক সারের কাজ কি? জৈব সারের উপকারিতা কি? রাসায়নিক সারের উপকারিতা কি? এবং রাসায়নিক সারের ক্ষতির প্রভাব কি? তাই সেশনে জানানো হয়। এই সেশনে সারের অভাব জনিত লক্ষণ কি? তা কৃষকদের শেখানো হয় এবং গুণগত ভালো সার চেনার উপায় সম্পর্কে কৃষকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবগত করানো হয়। খামারজাত সার প্রস্তুতি ও ব্যবহার সম্পর্কে এই সেশনে কৃষকদের ব্যবহারিক ভাবে শেখানো হয়। খামারজাত সার কি? এটি কিভাবে প্রস্তুত করা হয় এবং কিভাবে ব্যবহার করা হয়, তা এই সেশনে বিশদ আলোচনা ও ব্যবহারিক পদ্ধতিতে কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়। খামারজাত সার খুব সহজে, অল্প খরচে, কৃষকেরা উৎপাদন করতে পারে। এতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হতে পারে। তাই, কৃষি কাজে কৃষকের খরচ কমে যায়। তাই বলা হয়ে থাকে সমন্বিত কৃষি, কম খরচে আয় বেশি।
খামারজাত সার তৈরীর প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে একজন কৃষক তার বাড়ির আশপাশের এলাকায় ৩ ফুট লম্বায়, ৩ ফুট চওড়ায়, ৩ ফুট গর্তের মাঝখানে ২ ফুট জায়গা বাদ রেখে পাশাপাশি দুটি গর্ত করতে হবে। গর্ত দুটি সুন্দর ভাবে করতে হবে এবং উপর থেকে নিচের দিকে একটু ঢালু রাখতে হবে যাতে মাটি যেন ভেঙে না পড়ে। খামারজাত সার এর জন্য যে গর্ত ২টি করা হলো তা মাটি দিয়ে লেপাই করে দিতে হবে। গর্তের চারে দিকে মাটির উচু টিবি (বেরি বাঁধ) করে দিতে হবে। যাতে বৃষ্টির পানি ওই গর্তে প্রবেশ করতে না পারে। খামারজাত সারের গর্তের উপরে একচালা একটি চালের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি ও সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করে না করতে পারে।

এরপর দুটি গর্তের যেকোনো একটি গর্তে আপনি গরুর গোবর, তরকারির অবশিষ্টাংশ, গাছের পাতা, খড় কুটো ফেলানোর শুরু করতে পারেন। গর্তে ভরে গেলে কোদাল দিয়ে ওই গর্তের যাবতীয় খড় কুটো, গোবর পাশ্বের খালি গর্তে ফেলুন এবং ভালো ভাবে মিশিয়ে দিন। মিশানোর পরে ১ কেজি ইউরিয়া সার উপরে ছিটিয়ে দিয়ে মাটি দিয়ে প্রলেপ দিয়ে দিন এর কিছুদিন পর একটি কাঠ গর্তে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করুন সার হয়েছে কিনা।
পরীক্ষা করার নিয়ম হল কাঠ ঢুকানোর পর ও বের করার পর কোন গন্ধ বা ভিজা ভিজা ভাব না থাকলে মনে করতে হবে এটি ক্ষেত খামারে ব্যবহার করার উপযোগী খামারজাত সার হয়েছে।
ভার্মি কম্পোস্ট ও সবুজ সার তৈরি: ভার্মি কম্পোস্ট মূলত কেঁচো সার- পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকগণ কেঁচোর মাধ্যমে এই সার তৈরি করে, কৃষক তার ক্ষেত খামারে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রতিটি কৃষক পরিবারে একটি করে খামারজাত সার এর ব্যবস্থা থাকলে, ওই কৃষক পরিবার কৃষি কাজে উপকৃত হবে বলে কৃষি সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেন।

