সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
রাজধানী ঢাকায় মশা একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে , যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এমনকি জিকা ভাইরাসের মতো রোগও ছড়াচ্ছে। জনসচেতন, সংগঠিত নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে এর কার্যকর বিকল্প ব্যবস্হা।
১. নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে “মশা নিধন কমিটি” গঠন:
প্রতি পাড়া / মহল্লায় ৫-৭ সদস্যের কমিটি গঠন।
লক্ষ্য হবে: সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ প্রয়োগ এবং রিপোর্টিং করা।
২. নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস অভিযান:
প্রতি শুক্রবার বা নির্দিষ্ট দিনে “লার্ভা ধ্বংস দিবস” পালন করা।
জমে থাকা পানি, ফুলদানি, ডাবের খোসা, ড্রেন, রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করা।
৩. স্থানীয়ভাবে কীটনাশক স্প্রে করা :
স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত মশা নিধন ওষুধ (Malathion, Cypermethrin) সংগ্রহ করে
পাম্প মেশিনের মাধ্যমে সকালে ও বিকেলে স্প্রে করা
চাইলে পাশের এলাকা মিলে যৌথভাবে পেশাদার স্প্রে অপারেটর নিয়োগ
৪. সিটি করপোরেশনের কর্তৃপক্ষকে বারং বার অনুরোধ করা
সম্মিলিতভাবে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ এর মাননীয় প্রশাসক/ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি প্রদান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
৫. স্কুল, মসজিদ, ক্লাবভিত্তিক ক্যাম্পেইন:
শিশু-কিশোরদের দিয়ে পোস্টার, দেয়ালিকা, সচেতনতামূলক মিছিল আয়োজন করা।
সবাই যেন জানে—মশা নিধন “সরকারি” দায়িত্ব হলেও “জনসচেতনতাই” এর মূল চাবিকাঠি
“আমরা ফসলের মাঠে ক্ষতিকর প্রানী ইঁদুরের মতো মশাও নিধন করি – আমাদের পাড়া/ মহল্লায় এটা আমাদের দায়িত্ব”
প্রতিবেশী, দোকানদার, ইমাম, সামাজিক/সায়েন্স/ কৃষক ক্লাব সভাপতি, শিক্ষক—সবাইকে সম্পৃক্ত করা গেলে ভাল।
প্রথম ধাপে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন নির্দিষ্ট সময় “মশা বিরোধী অভিযান” চালানো যেতে পারে।
আসুন মশা নিধনে আমরা সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসি।
লেখকঃ সাধারণ সম্পাদক - আমরা পল্লবী বাসী, মিরপুর, ঢাকা; সাধারণ সম্পাদক - মিরপুর সায়েন্স ক্লাব এসোসিয়েশন, মিরপুর,ঢাকা ; সাধারণ সম্পাদক - মিরপুর রাইটার্স এসোসিয়েশন ও মিরপুর পাঠক ফোরাম, মিরপুর, ঢাকা;
কথক-বাংলাদেশ বেতার
