শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম মুক্তমতবডি শেমিং কারা করে?

বডি শেমিং কারা করে?

ফারজানা আরিফ

আপনি যদি কারও দেহের আকার, আয়তন বা ওজন নিয়ে প্রকাশ্যে এমন কোনো সমালোচনা বা মন্তব্য করেন যাতে সেই মানুষটি লজ্জাবোধ করেন বা অপমানিত হন, তবে তা বডি শেমিং। সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণ হচ্ছে, মোটা, শুঁটকি, বাট্টু, ময়দার বস্তা, কোন গুদামের চাল খাও, হাতি, তাল পাতার সেপাই ইত্যাদি। মানুষজন এত অবলীলায় বলেন যে মনে হয় সামনের জন বুঝি অনুভূতিশূন্য। কেউ কেউ হয়তো বলবেন ‘আরে আমি তো ওর ভালোর জন্যই বলি। বললেই তো সে শুকানোর জন্য চেষ্টা করবে’। ভুল, একেবারেই ভুল। রিসার্চার রা এই প্রশ্ন নিয়ে গবেষণা করে বের করেছে, ফ্যাট শেমিং কোনো উপকার তো করেই না, উল্টে ওজন বাড়িয়ে স্থূলতার দিকে ঠেলে দেয়। অপমানজনক কথা শোনার জন্য মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে খাবারের মাঝে সান্ত্বনা খোঁজে এবং পরিণামে ওজন বেড়ে চলে। বডি শেমিংয়ের আরেকটা ভয়াবহ ফলাফল হলো আত্মবিশ্বাসহীনতা। প্রতিনিয়ত নেগেটিভ মন্তব্য শুনতে শুনতে একপর্যায়ে মানুষ সেটাই বিশ্বাস করা শুরু করে এবং ফলাফল হচ্ছে ডিপ্রেশন এর মতো মানসিক ব্যাধি যার সঙ্গে আসে পুষ্টিহীনতা জড়িত আর অনেক অসুখ। কিন্তু আর ফেরত না আসতে পেরে নিজের, পরিবারের তথা সমাজের জীবন ধ্বংস করে দেয়।

এই বডি শেমিং কারা করে? আমার মনে হয় করে তিন ধরনের মানুষ।

১. অসম্ভব হীনমন্যতায় ভোগা মানুষ যারা আরেকজনের মনে আঘাত দিয়ে শান্তি পায়।

২. অবুঝ মানুষ যারা একটা কথা বলার পরে তার কী ফলাফল হতে পারে তা বুঝতে অক্ষম।

৩. সত্যিকারের খারাপ মানুষ যারা কোনো কারণ ছাড়া মানুষের মনে কষ্ট দিতে ভালোবাসেন।

আমি আমাকে নিয়ে কখনও হীনমন্যতায় ভুগিনা। আমি মোটামুটি হেলদি,তাতে আমার কোন হেজিটেশন নাই।আমি নিজেকে সুন্দর, প্রেজেন্টেবল,রুচিশীল ভাবি। কারো কথায় আমি কান দেইনা। তাই বলে সবার মানসিক শক্তি এক না। অনেকেই এসব কথা নিতে পারেনা,কষ্ট পায়,হীনমন্যতায় ভোগে।তাই মানুষের মন ভালো করার কাজ যদি অনেক শ্রমসাপেক্ষ ও কষ্টকর মনে হয়, তাহলে সহজ কাজটিই করুন—দয়া করে কারও মন খারাপ করিয়ে দেবেন না।

**মতামতের জন্য সম্পাদক / প্রকাশক দায়ী নয়

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular