- বিজ্ঞাপন -
হোম কৃষিখাগড়াছড়িতে এগিয়ে যাচ্ছে মৌ-চাষিরা

খাগড়াছড়িতে এগিয়ে যাচ্ছে মৌ-চাষিরা

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতাঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এসআইডি-সিএইচটি প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপির সহায়তায় পার্বত্য জেলা পরিষদ খাগড়াছড়ি কর্তৃক বাস্তবায়িত জেলার ৯টি উপজেলায় ৪ শতাধিক মৌ-চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফলাফল স্বরূপ মৌ-চাষে এগিয়ে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির ৯ টি উপজেলায় ৪০০ মৌ-চাষিদের দুই ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌ-চাষের সক্ষম করে তোলা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে মৌ-চাষ করার জন্য উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপকরণের মধ্যে ছিল মৌ-কলোনী, খালি মৌ-বাক্স, মধু সংগ্রহ যন্ত্র, ধোঁয়াদানী, কুইন বাক্স, গ্লাভস, হাইভ টুল, ব্রাশ, ছুরি, কুইন গেট ও মৌ-বাক্স স্ট্যান্ড।

৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় মৌ-চাষিরা উৎপাদনে চলে আসছে। প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মৌ-চাষিরা মধু উৎপাদন করে নিজেদের পারিবারিক চাহিদা, পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে বলে এই মৌ-চাষে অংশগ্রহণকারী পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের কৃষক সহায়ক মো. ফোরকান আলী ও সাথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, মৌ-চাষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে তারা লাভবান হয়েছেন এবং অন্যকে মৌ-চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার মানিকছড়ি উপজেলার সর্বমোট ৩৫ জন মৌ-চাষি এই মৌ-চাষ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে প্রথম দিকে অনেক মৌ-চাষিরা সফলতা আনতে না পারলেও পরের মৌসুমে উৎপাদনে এসেছে সকল মৌ-চাষিরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মৌ-চাষ প্রকল্প এখন সফলতার মুখ দেখেছে বলে প্রতীয়মান হয়। খাগড়াছড়ি সদরের ৫৬ জন, পানছড়ি উপজেলায় ৫৭ জন, দীঘিনালা উপজেলার ৪৪ জন, মহালছড়ি উপজেলায় ৪১ জন, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৫৬ জন, গুইমারা উপজেলায় ৪৫ জন, রামগড় উপজেলায় ৪০ জন, মানিকছড়ি উপজেলার ৩৫ জন, ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ২৬ জন মৌ-চাষি এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে প্রায় মৌ-চাষিরা এখন সফল।

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের মানিকছড়ি উপজেলার কৃষক সহায়ক ও এই মৌ-চাষের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন মৌ-চাষি এম.জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন “আমার একটি মৌ-বক্স খালি ছিল, কোনক্রমেই মৌমাছি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিন মনের অজান্তে আম বাগানে খুব সুন্দর ও পরিপাটি করে একটি মৌ-বক্স রেখে দিই। মাস খানেক পরে মৌসুমে এক দল মৌমাছি মৌ-বক্স দখল করে নেয় বিষয়টি খুবই আশ্চর্য মনে হয়”।

খাগড়াছড়ি মৌ-চাষি কল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ এর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শরীফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ৪০০ কৃষক পরিবারকে আমরা মৌ-চাষ প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণ করাই এবং প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান তারা কাজে লাগিয়ে মৌ-চাষিরা এখন সফল। পার্বত্য এলাকায় মৌ-চাষের ব্যাপকতা আরও বাড়ানো উচিত।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular