বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম অর্থনীতি ও বাণিজ্যলালমনিরহাটে ঘাস বিক্রি করে স্বাবলম্বী কাজল

লালমনিরহাটে ঘাস বিক্রি করে স্বাবলম্বী কাজল

গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন জেলার সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়া (৩৬)। পরিত্যক্ত জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।

কাজল জানান, প্রতিদিন সকালে ঘাস কেটে ভ্যানে করে নিয়ে যান সদরের বড়বাড়ী বাজারে। সেখানে কৃষক, গৃহস্থ, গরুর খামারি—বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন তার ঘাস কিনে নেন। প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘাস বিক্রি হয়।যা মাসে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঘাসের আঁটি আকার অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ টাকা দামে বিক্রি হয়। আগে অল্প মজুরিতে দিনমজুরি করতাম, তখন সংসার চালানো কষ্টকর ছিল। এখন নিজের জমিতে ঘাস চাষ করে ঘরে বসে আয় করছি।

কাজলের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (২৬), পাঁচ বছরের ছেলে মাহিন বাবু ও দুই বছরের মেয়ে কাশফিয়া জান্নাত। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি গরুও পালন করছেন, যা তার আয়ের আরেকটি উৎস।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে কাজল বলেন, আমি চাই আমার ছেলে একদিন সেনাবাহিনীর বড় অফিসার হোক, আর মেয়েটিকে ডাক্তার বানাতে চাই। ঘাস চাষের পরিধিও আরও বাড়াতে চাই। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে বড় পরিসরে ঘাসের ব্যবসা শুরু করে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারব।

বাজারে ঘাস কিনতে আসা খামারি জলিল হোসেন (৫৪) বলেন, এই বাজারে অনেকেই ঘাস বিক্রি করেন, তাদের মধ্যে কাজল অন্যতম। এখানে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দামে ঘাস পাওয়া যায়, যা আমাদের গরুর খাদ্য হিসেবে উপকারী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান,  বর্ষা মৌসুমে গবাদি পশুর খাদ্যসংকট দেখা দিলে এই ঘাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘাস চাষে আগ্রহীদের আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে কাজল বলেন, যারা বেকার, তারা খুব অল্প পুঁজিতে ঘাস চাষ শুরু করতে পারেন। এতে দ্রুত আয় সম্ভব এবং স্বাবলম্বী হওয়া যায়।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular