ইজাজ আহমেদঃ কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী প্রাণী ইঁদুর। এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪-৮ ইঞ্ছি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ১১ প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। ইঁদুরের সামনের দাঁত জন্ম থেকেই বাড়তে থাকে। কৃষকের ঘরে, মাঠে, গুদামে সর্বত্র ক্ষতিকরে থাকে। এরা বছরে ৬ থেকে ৮ বার বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবারে ৩ থেকে ১৩ টি বাচ্চা জন্মদিতে পারে। বাচ্চা প্রসবের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবার গর্ভধারণ করতে পারে।তিন মাসের মধ্যেই ইঁদুর বড় হয়ে আবার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। প্রায় স বজাতের ইঁদুর সাঁতারেপটু। ইঁদুর বৈদ্যুতিক তার বেয়ে চলাচল করতে পারে। ইঁদুরের স্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রকট। কোন একস্থানে একজোড়া ইঁদুর থাকলে একবছরে এরা ৩,০০০ টি বংশধর সৃষ্টি করতে পারে।
ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতির ধরনঃ
বছরে প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য নষ্টের মূল কারণ ইঁদুর। ইঁদুর সাধারণত ৫-১০ ভাগ ফসলের ক্ষতি করে। ফসলের থোরথেকে পাকা আবস্থায় ইঁদুর এসময়টাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।এরা গর্তে ২০ কেজির ও বেশি খাদ্য জমা করতে পারে এবং যা খায় তার চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি নষ্ট করে।একটি ইঁদুর বছরে ৫০ কেজি গোলাজাত শস্য নষ্ট করে। ইঁদুর দৈনিক তার শরীরের ওজনের একদশমাংশ খাবার খায়।মানুষের ও পশুপাখির মাঝেপ্লেগ, জন্ডিসসহ প্রায় ৩৩প্রকারের মারাত্নক রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে।
ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনাঃ
বিষ টোপ প্রয়োগ পদ্ধতিঃ ঘরে বা গুদামে অথবা দোকানে যদি গর্ত থাকে তাহলে গর্তের সম্মুখে বিষটোপ প্রয়োগ করতে হবে। যদি গর্ত না থাকে তবে ইঁদুরের সম্ভাব্য উপস্থিতির স্থানগুলোতে বিষটোপ প্রয়োগ করতে হবে। বিষটোপ একই পাত্রে বা একইস্থানে কমপক্ষে ৩-৪ রাত রাখতে হবে।গুদামে বা ঘরে ১০ হাত পরপর একটি বিষটোপ পাত্র রাখতে হবে। প্রতি পাত্রে ৫০-১০০ গ্রাম বিষটোপ রাখতে হবে।বহুমাত্রা বিষটোপ যত দিন ইঁদুর খাওয়া বন্ধ না করে ততদিন পাত্রে বিষটোপ রাখতে হবে।ফলধরার সময়বাগানে প্রতিএকরে ১২ টি বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে।
জৈবিক পদ্ধতিঃ বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে ইঁদুর দমনের জন্য এক প্রকার খাঁচা বা ফাঁদ পাওয়া যাচ্ছে যাতে ইঁদুর আকৃষ্ট হয় সেসব খাদ্য দ্রব্য রেখে ইঁদু রচলাচলের স্থানে রেখে দিতে হবে।ইঁদুর ফাঁদে পড়লে সেই খাঁচা পানিতে ডুবিয়ে রেখে ইঁদুরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে। তারপর যথাস্থানে পুতে ফেলতে হবে।
ইঁদুর দমনের উপযুক্ত সময়ঃ যেকোন ফসলের থোর আসার পুর্বে, কারণ এসময় মাঠে খাবার কম থাকে তাই এরা সহজেই বিষটোপ খেয়ে থাকে।গভীর বা অগভীর সেচের নালায় প্রথম পানি ছাড়ার দিন এবং বর্ষার সময় চারিদিকে পানি যখন টইটুম্বুর থাকে তখন উঁচুস্থানে চলে আসে ঠিক তখনই ইঁদুর দমনের উপযুক্ত সময়।
ইঁদুরের বিভিন্না প্রজাতিঃ
১। মাঠের বড় কালো ইঁদুর (Bandicota indica) এই ইঁদুর আকারে বেশ বড় এবং হিংস্র, স্ত্রী ইঁদুরের স্তন ৬ জোড়া।
২। মাঠের কালো ইঁদুর (Bandicota bengalensis) সাঁতারে পটু এবং গভীর পানির ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে। ধানের কুশি এবং শীষ বহন করে। স্ত্রী ইঁদুরের স্তন ৭-৯ জোড়া।
৩। বাঁশে রইঁদুর (Cannomys badius) বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি বাঁশের ইঁদুরের যাতামাটে বর্ণের।স্ত্রী ইঁদুরের স্তন ৪ জোড়া।
৪। গেছো ইদুর (Rattus yatus) এরা মাচা বা গুপ্তস্থানে গাছে বাসা তৈরি করে।ফলমূল ও খাদ্য শস্যের ক্ষতি করে।
৫। ছোট গেছো ইঁদুর (Rattus exulans) গেছো ইঁদুরের মতই এদের বৈশিষ্ট্য তবে আকারে ছোট ।
৬। হিমালয়ান ইঁদুর (Rattus Nitidus) উচ্চ ভূমির ফসল- ধান, গম, ভূট্টা, গোল আলু এবং ফল বাগানের ক্ষতি করে ।
৭। ঘরের বাত্তি ইঁদুর (Mus musculus) ঘরে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য, জিনিসপত্র, কাপড়-চোপড় এবং বই পুস্তকের ক্ষতি করে ।
৮। মাঠের সাদা নেংটি ইঁদুর (Mus boduge) শরীরের তুলনায় লেজের দৈর্ঘ বেশি ।
৯। সাদা দাঁত বিশিষ্ট ইঁদুর (Beryimys bowrsi) বনে গর্ত করে বাস করে ।
