Home গ্রামগঞ্জ দেড় বিঘা দিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ থেকে মুক্তি !

দেড় বিঘা দিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ থেকে মুক্তি !

দেড় বিঘা দিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ থেকে মুক্তি !
প্রতীকী ছবি

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে প্রতিবেশীর দেয়া মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে এক সন্তানের জননী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।

গত ৩০ জানুয়ারী রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারগাঁ ইউপির দমদমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, দমদমা গ্রামের পচন আলীর পুত্র বুলবুল গ্রামের জনৈক মাসুদ রানার স্ত্রী শাকিলা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ইঙ্গিত করে আসছে। গত ৩০ জানুয়ারী রোববার বুলবুল গ্রামে প্রচার করে তার সঙ্গে শাকিলা বেগমের পরোকিয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শাকিলা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোয় বুলবুলের ওপর অভিমান করে এদিন সন্ধ্যায় শাকিলা বিষপান করে।

ঘটনা জানতে পেরে পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে শাকিলা মারা যায়। নিহতের স্বজনদের দাবি শাকিলার মৃত্যুর দায় অপপ্রচারকারী বুলবুল এড়াতে পারে না, আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে সে অভিযুক্ত।

মাসুদ রানা ও শাকিলার ঘরে তাদের সাড়ে চার বছরের এক সন্তান রয়েছে। কিন্ত্ত ঘটনার পর পরই বুলবুলকে বাঁচাতে একটি মহল দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক স্বজন বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে তারা বুলবুলের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে মাতব্বরগণ তাদের বাধা দিয়ে আপোষ-মিমাংসার জন্য চাপ দেন। তবে তারা শাকিলার অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী বুলবুলের শাস্তি চায়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রামেক হাসপাতাল থেকে লাশ আশার আগেই ৩১ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম (রানা), শিমুল ও আলমগীর প্রমুখ। শালিস বৈঠক করে নিহতের সন্তানের নামে ক্ষতিপুরুণ হিসেবে অভিযুক্ত বুলবুলকে দেড় বিঘা ফসলী জমি রেজিষ্ট্রি দিতে হবে বলে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে নিয়ে, তাকে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয় বলে গুঞ্জন বইছে।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম রানা বলেন, এটা শালিস নয় গ্রামবাসীর অনুরোধে শিশুর ভবিষ্যৎ, মানবতা ও সামাজিকতার কথা চিন্তা করে নিহতের সন্তানের নামে দেড় বিঘা জমি রেজিষ্ট্রি দিতে বলা হয়েছে, কারণ কোর্ট-কাচারী করলে তো দু’পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বে।

গ্রামীণ কৃষি/ আলিফ হোসেন    

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here