Home গ্রামগঞ্জ তানোরে শহীদ মিনারের অবমাননা !

তানোরে শহীদ মিনারের অবমাননা !

তানোরে শহীদ মিনারের অবমাননা !

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে ভাষার মাসে শহীদ মিনার অবমাননার অভিযোগ তুলেছে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আশা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপনে সরকারী ভাবে সারাদেশে অফিস-আদালত, সরকারী-বেসরকারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও প্রতিটি শহীদ মিনার চত্ত্বর ধুঁয়েমুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নের পাশাপাশি আলোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্ত্ত সেই নির্দেশনা পালন করেনি ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রী কলেজ।

এদিন একুশের প্রথম প্রহর রোববার রাত ১২,০১ মিনিটে মুন্ডুমালা ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পুরো শহীদ মিনার এলাকায় গা ছমছমে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভুতুরে পরিবেশ। অধ্যক্ষের নির্দেশনা না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানের বড় শহীদ মিনারটি পরিস্কার-পরিচ্ছনতা তো করেননি। এমনকি রাতে কোন আলোর ব্যবস্থাও রাখেনি।

যার ফলে এদিন রাতে পুরো শহীদ মিনার চত্বর ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন ভুতুরে পরিবেশ। শহীদ মিনারের এমন ভূতুরে পরিবেশ দেখে এদিন রাতের প্রথম প্রহরে পুস্পস্তবক করতে আশা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুশিল সমাজ অধ্যক্ষের উপর প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ ও তার শাস্তির দাবি করেন।

সরকারী ভাবে রাত ১২.১মিনিট শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক করার নির্দেশনা ছিল। সরকারী নির্দেশমত রোববার রাতে মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র , পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ রোববার রাত সাড়ে ১১টার সময় শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে উপস্থিত হন।

সেখানে ভূতুরে অন্ধকার পরিবেশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মুন্ডুমালা পৌর ছাত্রলীগের নেতা রুবেল হোসেন ও অপুর্ব হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষ দিবসটি উপলক্ষ্যে রাতে সেখানে উপস্থিত না থেকে বাড়ি ঘুমাচ্ছেন। অথচ এলাকার শত শত মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে রাতের অন্ধকারে সেখানে গিয়েছেন।

তারা বলেন, অধ্যক্ষ বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী মানুষ সেটা আবারো প্রমাণ হলো, অধ্যক্ষের বিচার হওয়া উচিত। নয়তো আন্দলন গড়ে তোলা হবে।

মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন বড় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। অথচ তিনি কোন জাতীয় দিবসগুলোতেই রাতে পুস্পস্তবক করেননা। সেই সাথে শহীদ মিনার রাতে আলোর ব্যবস্থা করেন না। অবহেলার চোখে দেখেন। এবারো শহীদ মিনারের অবমাননা করেছেন এটা সরকারের দেখা উচিত।

এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন বলেন, কলেজের পাশেই শহীদ মিনার। রাতে কলেজে লাইট জলে থাকে এতেই দেখা যায়। আর আমরা দিনে পুস্পস্তবক করে থাকি। রাতেই শ্রদ্ধা জানাতে হবে এমন তো নয়, দিনে জানালে সমস্যা তো ছিল না।

গ্রামীণ কৃষি/ আলিফ হোসেন      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here