তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে ব্যবসায়ীর দোকান থেকে নকল কীটনাশক আটক ও গোপণে পুড়িয়ে ঘটনা ধাঁমাচাঁপা দেবার অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তানোরের কামারগাঁ ইউপির মাদারীপুর বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই মেসার্স সিজান ট্রেডার্স কীটনাশক ব্যবসা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, এই ব্যবসায়ী কেশরহাট ও সাবাইহাট থেকে নিম্নমাণের কিটনাশক নিয়ে এসে বিক্রি করে আসছেন বলে কৃষকের মুখে মুখে আলোচনা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ এপ্রিল বুধবার মাদারীপুর বাজারের মেসার্স সিজান ট্রেডার্স থেকে মাদারল্যান্ড কোম্পানীর বিভিন্ন প্রকারের ৬ কার্টুন নিম্নমাণের কীটনাশক জব্দ করেন উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। কিন্ত্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা জব্দকৃত কীটনাশক অফিসে না এনে গোপণে তড়িঘড়ি ব্যস্ত রাস্তার পাশে পুড়িয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীকে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ ব্যবসায়ী মহল।
সচেতন মহলের প্রশ্ন কীটনাশক আসল, নকল, ভেজাল না নিম্নমাণের তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এভাবে পুড়িয়ে দিয়ে হলো কার স্বার্থে ? এদিকে কীটনাশক পুড়ানো দেখতে গিয়ে শিশুসহ দু’জন পথচারী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় কীটনাশক পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এবিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স সিজান ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী ময়েজ উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় এক মাস আগে মাদারল্যান্ড কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির কাছে থেকে কামাল স্যার এসব কীটনাশক জব্দ করে তার দোকানে জমা করে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, এসব কীটনাশকের মেয়াদ ছিল তার পরেও ক্যানো পোড়ানো হলো সেটা বলতে পারবেন না। তিনি বলেন, তার দোকানের লাইসেন্স নাই,তবে আবেদন করা হয়েছে। এবিষয়ে মাদারল্যান্ড কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বলেন, তার কোম্পানির এসব কীটনাশকের মেয়াদ রয়েছে, তার পরেও আর্থিক সুবিধা না পেয়ে অন্যায় ভাবে তার কীটনাশকগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে কীটনাশক পোড়ানোর বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ্’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গ্রামীণ কৃষি/ আলিফ হোসেন

