এম. জুলফিকার আলী ভুট্টোঃ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় ” নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ বিষয়ক তিন দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় গুইমারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য অফিসার দীপন চাকমা’র সঞ্চালনা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কংজরী মারমা ও খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ড. মো. আরিফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত আলোচনা করেন ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে গুইমারা উপজেলা মৎস্য অফিসার, দীপন চাকমা। আরও উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারি স্বাগুতা চাকমা, ফিল্ড অফিসার মংসানাই মারমা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে জলাশয়ের অভাব, পতিত জমিতে ক্রিক বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
তারা আরও বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ২৬ টি উপজেলায় কাজ করছে মৎস্য বিভাগ। তাই সকল প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ সহকারে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। উল্লেখ্য, যে উপজেলার ২০ জন মৎস চাষী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্রে মৎস্য চাষীরা উপজেলা মৎস্য অফিস পর্যায়ে মাছ ধরার জন্য একটি জাল এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান। মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপকরণের কথা উঠে আসে এবং অনতিবিলম্বে রামগড় মৎস্য হ্যাচারি পুনরায় চালু করার জন্য আহবান জানানো হয়। তিন দিন ব্যাপী কার্প জাতীয় মৎস্য চাষ বিষয় প্রশিক্ষণে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, প্রকল্প পরিচিতি ও মাছ চাষ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা, কার্প জাতীয় মাছের পরিচিতি, আদর্শ পুকুর বা ক্রিকের বৈশিষ্ট, মাছ চাষে মাটি ও পানির ভৌত এবং রাসায়নিক গুনাগুণ, পুকুর বা ক্রিক প্রস্তুতি ও চুন প্রয়োগ, সার প্রয়োগ এবং মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা। মজুদ ঘনত্ব, পোনা মজুদ ও মজুদকালীন ব্যবস্থাপনা, মাছের সম্পূরক খাদ্য ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মাছের নমুনায়ন, আহরণ ও আহরণোত্তর পরিচর্যা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলন (GPA), মাছ চাষে ঝুঁকি ও রোগ ব্যবস্থাপনা, মাছ চাষে আয়-বায় বিশ্লেষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও অনুশীলন। মৎস্য আইন প্রতিপালন এবং মাদক, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক বিরোধী সংক্ষেপে আলোচনা করেন বাকি থাকা বিষয় সমুহ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা যায়।
জানা যায় মাঠ পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলায় নানিয়ারচরে অবস্থিত মিনি হ্যাচারি পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, প্রশিক্ষণ পরবর্তী মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারী-২০২৪ খ্রি. তারিখে মৎস্য চাষের তিন দিন ব্যাপী কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ বিষয়ক এই প্রশিক্ষণের কার্যক্রমের সমাপ্ত হবে ।
Enter
