- বিজ্ঞাপন -
হোম মুক্তিযুদ্ধবিশ্ব প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের ভাষণ

বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের ভাষণ

মোঃ ফারুকুল ইসলামঃ বাঙ্গালীর কোন জাতিরাষ্ট্র ছিলোনা,যেমনটি আজও নেই কুর্দী সহ অনেক  জাতির। কুর্দীদের  নিজস্ব পতাকা,জাতীয়  সঙ্গীত থেকেও ওরা স্বাধীনতা পায়নি আজও। বাঙ্গালীর  জাতীয় পতাকা, জাতীয়  সঙ্গীত কিছুই ছিলোনা। বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘদিনের।মোগল,পাঠান, বৃটিশ আর পশ্চিমাদের শোষণ এবং শাসনের নাগপাশ ছিন্ন করে বেরিয়ে আসতে দীর্ঘ সংগ্রাম আর প্রানক্ষয়ের  মধ্য দিয়ে আসতে হযছে এ জাতিকে। একটি দীর্ঘ অপশাসনের হাত থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির প্রধান স্থপতি,ইতিহাসের মহানায়ক,রাখাল রাজা,বাঙালির অবিসংবাদিত  নেতা  জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে। অবিচল  আস্থা এবং দেশমাতৃকার  বুকে আত্মত্যাগের মাধ্যমে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের  মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে,রাজপথে কত না রক্ত রাতে  বইয়ে দিয়ে,লাখো প্রাণ ও সম্ভ্রমের  বিনিময়ে সেই অস্তমিত স্বাধীনতা সূর্যের উদয়ন ঘটিয়ে,এসেছিল মুক্তি,হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

ক্ষুদিরামেররক্ত,সুর্য সেনের রক্ত, মজনুশাহ, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানীর পথ ধরে অবশেষে এলেন এক কবি যার নেতৃত্বে ৪৮-এ বাংলা ভাষার দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পথ বেয়ে। ‘বাংলাদেশ’ নামটি বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেছিলেন ১৯৪৮ সালের ২৯ নভেম্বর নারায়নগঞ্জের বায়তুল আমানে। নারায়নগঞ্জ মহুকুমা ছাত্রলীগের তৎকালীন আহবায়ক(পরবর্তীতে হাইকোর্টের বিচারপতি) বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ছাত্রলীগের সর্বপ্রথম মহুকুমা  সম্মেলনে  প্রধান  অতিথির বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ’ নামটি উচ্চারন করেন। ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর  যুক্তফ্রন্ট  নির্বাচনে জয়লাভ, ’৫৬-এর সংবিধান প্রণয়নের আন্দোলন, ’৫৮-এর মার্শাল ’ল বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন  বিরোধী  আন্দোলন, ’৬৬-এর  বাঙালির  মুক্তির  সনদ ৬-দফার  আন্দোলন, ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফা ভিত্তিক ’৭০-এর ঐতিহাসিক  সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী  লীগের নিরঙ্কুশ  সংখ্যাগরিষ্ঠতা  অর্জন করেও ক্ষমতায়  বসতে দেয়া হয়নি। এর প্রেক্ষিতে  তৎকালীন  রেসকোর্স মাঠে (বর্তমানে  সোহরাওয়ার্দী  উদ্যান) আয়োজন  করা  হয় বিশাল  জনসমাবেশ। অনেকে অনেক কথা বলেছে, কি বলতে হবে, না বলতে হবে ভাবতে ভাবতে-শেষ মুহূর্তে স্ত্রীর মুখোমুখি হলেন যা তিনি সবসময় করতেন, বঙ্গমাতা কে বললেন-“কি বলব আজকে”। প্রিয়তমা স্ত্রী পাশে বসলেন পানের  বাটা নিয়ে।সহজ-সরল এই গৃহবধূ নিজ স্বার্থ আর সন্তানের মায়া ত্যাগ করেছিলেন  দেশের মায়ায়।বঙ্গবন্ধুর  মাথায়  হাত বুলিয়ে বঙ্গমাতা বললেন-“তোমার পেছনে বন্দুক, সামনে জনতা, দেশের মানুষ  তোমার  দিকে তাকিয়ে  আছে। তোমার যা বলা উচিত তাই বলবে,নিঃসঙ্কোচে বলবে,কাউকে ভয় করবে না,নির্ভয়ে বলবে”। সঞ্জীবনী সুধার মতো কাজ করল প্রিয়তমা  স্ত্রীর এই অনুপ্রেরণা।বেরিয়ে পড়লেন বঙ্গবন্ধু। তার গাড়ি চালিয়ে নিলেন আজীবনের সঙ্গী হাজী মোরশেদ মঞ্চে উঠার আগে প্রশ্ন করলেন-“আপনি কি বলবেন, কাগজপত্র তো কিছু নেই”।বঙ্গবন্ধু উপরের দিকে তাকিয়ে বললেন-“আল্লাহ আমাকে দিয়ে যা বলায় তাই বলবো” । রেসকোর্স ময়দান তখন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ।চারদিকে গগনবিদারী ¯েøাগান। অবশেষে এলেন এক কবি গন-সূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে  হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর  রহমান মঞ্চে উঠলেন ।বঙ্গবন্ধু নিজেও জানতেন না  যে, তিনি কি বলবেন বা কিভাবে শুরু করবেন। আওয়ামী লীগের প্রয়াাত নেতা আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনায় ¯েøাগান মুখরিত মঞ্চে বঙ্গবন্ধু সামনে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘মাইকটা দে’।তারপর শুরু করলেন তার কিংবদন্তিতুল্য ভাষণ,শোনালেন তাঁর অমর  কবিতাখানি ।যখন বক্তৃতা শুরু করলেন, মনে হলো তিনি যেন বাঙালি জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যটি রচনা করছিলেন । ৭ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুর অমর রচনা, যেটি বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার লালিত স্বপ্ন থেকে রচিত।ভাষণটি বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু  করে বিকেল ৩টা ০৩ মিনিটে শেষ করেন। ১৭.৫৫  মিনিট স্থায়ী হয়।

১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রার স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় মেজর জিয়ার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়েছিলো।সেখানে জিয়াউর  রহমান বলেছেন-“৭ মার্চের ভাষণকে আমরা বাঙ্গালী সেনাকর্মকর্তারা স্বাধীনতার গ্রীণ সিগন্যাল বলে মেনে নিয়েছিলাম”।

এভাবে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রীত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর ১৭.৫৫ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে। ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অমর বাণী, বাঙ্গালির প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-প্রতিশোধের সাতকাহন।বাঙ্গালির কতটা আপন হলে বুকের ভিতর থেকে এমন একটি ভাষণ বেরিয়ে  আসে।

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”–খ্যাত কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভূত ঘটনা প্রবাহের মধ্য স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠা।

বঙ্গবন্ধুর অলিখিত সেই ১১০৮ শব্দের  ১৭.৫৫ মিনিটের ভাষণ=একটি বাংলাদেশ।

বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষিপ্ততম ভাষণ,অন্যঅতম শ্রেষ্ঠতম ভাষণ। তাঁর দেয়া  ভাষণ একটি মহাকাব্য। বঙ্গবন্ধুর মতো খুব কমসংখ্যক বিশ্বনেতাই এ ধরনের ভাষণ দিয়েছেন। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ভাষণগুলোর প্রায় সবগুলোই ছিল লিখিত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ অলিখিত।অনেকে এই ভাষণকে বিশ্বের অন্যতম অন্যান্য ভাষণগুলোর সাথে তুলনা করেন, অনেকের কথা আসতে পারেৃৃৃ..

আব্রাহাম লিংকনের  গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস  ১৯ নভেম্বর, ১৮৬৩ সালে মাত্র ০৩ মিনিটের ২৭২ শব্দের  এক ভাষণ দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের  ষোড়শ রাষ্ট্রপতি। ১৮৬৩ সালের ১-৩ জুলাই তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের  পেনসিলভেনিয়ার  গেটিসবার্গে  রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে  প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে  যুদ্ধের প্রায় চার মাস পর এক স্মরণসভায় লিংকন এই বক্তৃতা দেন- “জনগণের সরকার,জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার”।

প্যাট্রিক  হেনরি  তৎকালীন ভার্জিনিয়া  রাজ্যের  শাসক, ২৩ মার্চ, ১৭৭৫ সালে এই বক্তৃতা দেন-“আমাকে স্বাধীনতা দাও, নয়তো মৃত্যু” মার্চ মাস স্মরণীয় হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপরাজ্য ভার্জিনিয়ার  মানুষের  কাছে।

দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশ হাউজ অফ কমন্স সভায়  উইনষ্টন চার্চিলের  ১৩ মে, ১৯৪০ প্রদত্ত ভাষণ-“দেওয়ার  মত কিছুই নাই,আমার আছে শুধু রক্ত,অশ্রু  আর ঘাম’,আর যদি প্রশ্ন কর আমাদের লক্ষ্য কি? আমি এক কথায়  উত্তর  দিব পথ যত দীর্ঘ কিংবা দুর্গম থেকে বিজয়  ছাড়া আমাদের অন্য কোন পথ নাই”।দুই আঙ্গুল উঁচিয়ে ভি বা বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক সাড়া  ফেলেছিলেন।

মহাত্মা গান্ধী ৮ আগস্ট, ১৯৪২ তৎকালীন বোম্বের গাওলিয়া  ট্যাক ময়দানে ব্রিটিশদের প্রতি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান–“ভারত ছাড়… যা ভারত ছাড় বা কুইট ইন্ডিয়া বক্তৃতা নামে ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সবচেয়ে  বিখ্যাত ভাষণ হল- “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” (হিন্দিতে, তুম মুঝে খুন দো, ম্যায়  তুমহে আজাদি দুঙ্গা)। ৪ জুলাই ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে বার্মাতে এক র‌্যালিতে তিনি এই উক্তি করেন। তার আর একটি বিখ্যাত উক্তি হল- ‘ভারতের জয়’ (‘জয় হিন্দ’), যা কিনা পরবর্তীতে ভারত সরকার গ্রহণ করে নেয়।

মার্টিন লুথার কিং বর্ণবাদী বিরোধী কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ২৮ আগস্ট, ১৯৬৩ সালে ভাষণ-“আমি স্বপ্ন দেখি..”  (I have a dream)

৭ মার্চ, দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করেছে এক রক্তস্নাত দিন হিসেবে।

নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী বিরোধী নেতা তার ১৭৬ মিনিটের ভাষণ যার ভাবানুবাদ-“গোটা জীবন আমি উৎসর্গ করেছি, আফ্রিকার মানুষের মুক্তির সংগ্রামের জন্য আমি শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যের জন্য লড়েছি এবং আমি লড়েছি কৃষ্ণাঙ্গদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে, আমি লালন করেছি গনতান্ত্রিক ও মুক্তির সমাজের স্বপ্ন যেখানে সবাই শান্তি ও সৌহার্দ্য থাকবে এবং কোন বৈষম্য থাকবেনা,গনতন্ত্র একমাত্র আদর্শ যার জন্য “আমি মরতে প্রস্তুত” (I am prepared to die)

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ১৭.৫৫ মিনিটের নির্ভূল ভাষণ তুলনামূলক বিচারে তাদের চেয়েও সেরা ভাষণ।ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ০৫টি ভাষণের মধ্য স্থান দখল করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণ।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহাসিকগণ প্রতিনিয়ত ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে গবেষণা করেছেন।সারাবিশ্বের প্রথিতযশা ঐতিহাসিকগণ বিস্তর পরিসরে গবেষণা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ থেকে ১৯৮৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত সেরা ভাষণ নিয়ে  জ্যাকব এফ.এম ফিল্ড রচিত “we shall fight on the beaches: the speeches that inspired history speeches that inspired history” গ্রন্থে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ- “The struggle this time is the struggle for independence this time is the struggle for Independence” বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যুগে যুগে সকল সমাজের নিপীড়িত, নির্যাতিত এবং স্বাধীনতা প্রিয় মানুষকে উৎসাহ, উদ্দীপনা আর অনুপ্রেরণা যোগাবে।৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে স্যার এডওয়ার্ড রিচার্ড জর্জ হিথ ব্রিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী  বলেছিলেন-পৃথিবীতে মানুষ যতদিন পরাধীনতার বিরুদ্ধে  সংগ্রাম করবে ততদিন এই ভাষণ প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুনে সাড়ে  সাত কোটি বাঙালির তন্ত্রীতে-তন্ত্রীতে আগুন জ্বলেছিল- জাতির নির্ভূল লক্ষ্যভেদ করেছিলো ।যার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের  নিদ্রাহীন কালো রাত্রিতে পাকহানাদার বাহিনী  কর্তৃক নিরীহ,নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে গণহত্যা  চালায় যা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় জেনোসাইড-নির্দয়, নির্মম, নিষ্ঠুর, নৃশংস হত্যাকান্ড। প্রথমটি ছিল জার্মানির  হিটলারের নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ ইহুদি হত্যাকান্ড ।

২৫ মার্চেরর দিবাগত রাত ১২:৩০ মিনিটে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান EPR (East Bengal Regiment) এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদের নিকট বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম বার্তাটি প্রেরণ করেন-(পৃথিবীর  ইতিহাসে দুটি দেশ যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পূর্বেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, একটি ক্ষমতাধর আমেরিকা ৮ জুলাই, ১৭৭৪ সালে টমাস হ্যারিসন। আর বাংলাদেশের  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর  রহমান)

দীর্ঘ ০৯ (নয়) মাস নিরন্তর রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী  উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী-  যৌথবাহিনীর  কাছে  আনুষ্ঠানিকভাবে  আত্মসমর্পণ করে এবং বিশ্ব মানচিত্রে পূর্ব পাকিস্তান  নামটি পরিবর্তিত হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লক্ষ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়  বাঙালি জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন আদর্শবাদী এবং আত্মত্যাগী রাজনৈতিক  নেতা  হিসেবে বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন স্বাধীনতা।

ইউনেস্কো’র (UNESCO) বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ডকুমেন্টরি হেরিটেজ (বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল) হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে  বিশ্ব স্মৃতির আন্তর্জাতিক নিবন্ধন (International Memory of the World Register) এ সংগৃহীত করেছে ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর। ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। স্বাধীনতার সংগ্রাম শেষ হয়েছে কিন্তু আমাদের মুক্তির সংগ্রাম চলমান।বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শোষনমুক্ত,অসম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের। তার সে স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে আমাদের সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।

[লেখকঃ আইডি-১৪১৯, সিনিয়র এসএসএ-ডেসকো, বি ও বি বিভাগ, উত্তরা (পূর্ব)]

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular