শেখ মহিদুল ইসলাম রাজু

নীলাঞ্জনা, বলো তো শেষ কবে,

হাতে হাত ধরে এই ভবে,

নিয়েছি প্রাণ খুলে শ্বাস;

পিঠে পিঠ রেখে আনমনে,

বেখেয়ালে ক্ষণে ক্ষণে,

তুলেছি পার্কের যতো ঘাস।

মনে পড়ে চঞ্চল পুলকরাশি,

ফুল বিক্রেতা মেয়েটার হাসি,

‘ফুল লন, আফা ফুল, ভালা ফুল’;

না পেয়ে কোনো উপায়;

ফুল কিনে দিতাম তোমার খোঁপায়,

তুমিও আনন্দে হতে ব্যাকুল।

মনে পড়ে বেদেনী মেয়েটির সাথে,

নাকে নোলক শাড়ি পড়া বাক্স হাতে,

হয়েছিল কদিনে কেমন ভাব;

বাদাম বিক্রেতা ছেলেটি,

দেখে হাসতো মিটিমিটি,

লুকিয়ে দেখা ছিল ওর স্বভাব।

শুকনো পাতার মরমর শব্দে,

কিংবা নির্জনতার উপলব্ধে,

হারিয়ে যেতাম দুজনে;

কচি পল্লবে ঝিরিঝিরি হাওয়া,

পানির কুলকুল শব্দে পাওয়া,

কল কাকলি আর কূজনে।

একি নীলাঞ্জনা,

তুমি যে কিছু বলছো না,

কেন আছো বলো চুপটি করে;

আনমনে নিজের সাথে,

বকে চলেছি দিনে রাতে।

নীলাঞ্জনা, সে তো আজ পরপারে।

করোনা কোভিড নাইন্টিন,

কেড়ে নিয়েছিস আমার কুইন,

তবুও ছাড়িনি হাল, মানিনী পরাজয়;

এতো দিনের স্মৃতি, প্রেম-প্রীতি,

দূর করে সমাজের বাধা, রীতিনীতি,

রাণী হয়ে আছো তুমি জুড়ে এ হৃদয়।

হৃদয়ের মনি কোঠায়,

করোনার কোনো ঠাঁই নাই,

যেখানে রেখেছি তোমায় অতি যতনে;

যুগ যুগ ধরে ভালোবাসায় দিব ভরে,

না-ই বা পেলাম তোমায় আপন করে,

তবু তুমি রবে আমার শয়নে স্বপনে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে