তানোর (রাজশাহ) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে জাল দলিল সৃষ্টি করে এক বিধবার গভীর নলকুপ জবরদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তানোরের তালন্দ ইউপির আড়াদিঘি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ২৫ এপ্রিল সোমবার রশিদা বেওয়া বাদি হয়ে আড়াদিঘি গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর পুত্র শাফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালন্দ ইউপির জেল নম্বর ১৪৯ আড়াদিঘি মৌজার, আরএস খতিয়ান নম্বর ১২৬ ও দাগ নম্বর ৬১, জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ শ্রেণী ধানি। স্বামী আইনুলের ক্রয় সূত্রে তার স্ত্রী রশিদা ওই জমির স্বত্ত্বাধিকারী। ওই জমিতে (সেচপাম্প) গভীর নলকূপ বসিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে শান্তপুর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন আইনুল হক। এদিকে নামজারি ও নিয়মিত সরকারি খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধ করে আছে আইনুল হকের নামে চলমান রয়েছে। এদিকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ আইনুল হক মারা যায়। আইনুলের মৃত্যুর জন্য তার স্বজনরা প্রতারক শাফিউল ইসলামকে দায়ী করেছে।
তারা বলছে, শাফিউলের নানামুখী চাপ ও মানষিক নির্যাতনের কারণে আইনুলের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আইনুলের মৃত্যুর পর আড়াদিঘি গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর পুত্র প্রতারক শাফিউল ইসলাম দলিল লেখক আবুল হোসেনের (লাইসেন্স নং১৭৭) যোগসাজশে জাল দলিল সৃষ্টি করে ওই গভীর নলকুপ জবরদখল করেছে। এতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন সেচপাম্প (গভীর নলকুপ) হারিয়ে একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে রাশিদা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে হঠাৎ করেই শাফিউল ফুলেফেঁপে ওঠায় তার সম্পদ ও আয়ের উৎস্য নিয়ে জনমনে মুখোরুচক নানা গুঞ্জন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাফিউলের এক বন্ধু বলেন, শাফিউল তার স্ত্রীর নামে ডিপ কেনার কথা বলে শশুরের কাছে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার নামে জাল দলিল সৃষ্টি করে ওই বিধবার ডিপ জবরদখল করেছে।
এবিষয়ে রশিদা বেওয়া জানান, তার স্বামী সেচপাম্পটি নির্ধারিত সময়ের জন্য ৫ লাখ টাকায় শাফিউলের কাছে ইজারা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৩ মার্চ তার স্বামীর মৃত্যুর পর টেন্ডারের টাকা চাইলে উক্ত টাকার বিনিময়ে তানোর শাখা রুপালী ব্যাংকের একটি ৫ লাখ টাকার চেক দেন শাফিউল ইসলাম, তবে সেই অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় পুনরায় তার কাছে টাকা চাইলে, সে বলে তার স্বামীর সেচপাম্প ( ডিপটিবওয়েল) তিনি ৫৪৫৭ নম্বর দলিল মূলে ক্রয় করে নিয়েছেন।
রশিদা বেওয়া আরো বলেন, তিনি রেজিষ্ট্রী অফিস থেকে দলিলের নকল তুলেছেন, ওই দলিলে সেচপাম্প বিক্রির কথা উল্লেখ নাই এবং তার স্বামীর স্বাক্ষর জাল জাল করা হয়েছে, কাজেই তার স্বামী প্রয়াত আইনুল হক জমি বিক্রি করেনি।
এবিষয়ে শাফিউল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনুল হকের কাছে থেকে বৈধভাবে সেচপাম্পসহ জমি ক্রয় করেছেন, কাজেই দখল ছাড়ার কোন প্রশ্নই আসে না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লেখক আবুল হোসেন জাল দলিলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবাথ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
