আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোর ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমিতে গড়ে উঠা অধিকাংশ ইট ভাটার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,অভিনব কৌশলে তৈরী করা ইটের সাইজ ছোট ও দাম বেশী নিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও এক নম্বর ইটের সঙ্গে দুই নম্বর ও দুই নম্বর ইটের সঙ্গে তিন নম্বর ইট দিয়ে গ্রাহকদের ঠকানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ভাটায় তৈরী ইটের প্রকৃত মাপ হবে ১০ ইঞ্চি লম্বা, ৫ ইঞ্চি চওড়া এবং ৩ ইঞ্চি উচ্চতা কিন্তু সেটা থাকছে ৯ ইঞ্চি লম্বা, ৪ ইঞ্চি চওড়া ও আড়াই ইঞ্চি উচ্চতা। অথচ এদের তৈরী ছোট ইটের দাম নেয়া হচ্ছে অনেক বেশি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তানোরের বাধাঁইড় ইউপির গোয়ালপাড়া কেআরবি ভাটা, চৌবাড়িয়া বাঁকাপুর হিরো ও বিশ্বাস ইট ভাটায় ইটের সাইজ ছোট করে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব ইট ভাটায় প্রতিবছর শত শত বিঘা জমির টপ সয়েল পোড়ানো হয়।
বিগত ১৯৯২ সালের ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কৃষি-জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে, ২০১৩ কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এসব আইন এই অঞ্চলে মানা হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ফাইভ স্টার, গোয়ালপাড়া কেআরবি, চৌবাড়িয়া বাকাঁপুর বিশ্বাস ও হিরো, মোহনপুর উপজেলার বেলনা বড়াল মাঠে আজিজুল ইট ভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিশাল মজুদ করা হয়েছে। দুই একটা ভাটাতে লোক দেখাতে সামান্য কয়লা চোখে পড়লেও বিভিন্ন রকমের কাঠ দিয়ে চলছে কার্যক্রম। সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে।
কিন্তু আইন রয়েছে আইনের জায়গায়, বাস্তবে এর নেই কোনো প্রয়োগ নেই। ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মালিকগন৷ সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব ইটভাটার মালিক হন তোয়াক্কা করে না কোনো আইন, প্রশাসন। কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে গড়ে তোলে তাদের ইট ভাটা। এ অঞ্চলের কৃষিজমির টপ সয়েল দিয়েই তৈরি হয় ফাঁপা, ও ছিদ্র বিহীন ইট। কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছাদিত করে তৈরি করা হয় ইট।
আর গ্রামীণ সড়ক ব্যাবহার করে পরিবহন করা হয় মাটি ও ইট। ইট ভাটায় প্রকাশ্যে মাটি ক্রয় করা হচ্ছে এত শুধু ফসলী জমিই নষ্ট হচ্ছে তা নয় রাস্তা ঘাট,পরিবেশসহ ধ্বংস হচ্ছে প্রাণীকুলও। জানা গেছে কৃষিনির্ভর তানোর ও সীমান্ত সংলগ্ন উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত আছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চালাতে হয়। এক কথায় বলতে গেলে কৃষি নির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি।
কিন্ত অবৈধ ইটভাটা গুলোর কারণে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। এসব ভাটার গর্ভে চলে যাচেছ কৃষিজমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি)। কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

