শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম কৃষিতানোরে আলুচাষিদের সাড়ে ৪৬ কোটি টাকা ফড়িয়াদের পকেটে !

তানোরে আলুচাষিদের সাড়ে ৪৬ কোটি টাকা ফড়িয়াদের পকেটে !

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে সাধারণ আলুচাষিদের কাছে থেকে কথিত ঢলনের নামে প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ কেজি আলু হাতিয়ে নিয়েছেন মধ্যস্বত্ত্বভোগী ফড়িয়ারা। এসব আলুর বাজার মুল্য ১৩ টাকা কেজি ধরা হলে মোট দাম ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আলুচাষ হয়েছে। তবে এবার মৌসুমি মধ্যস্বত্ত্বভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কথিত ঢলনের নামে বস্তাপ্রতি ৫ থেকে ৭ কেজি আলু বেশী নিচ্ছেন। এতে আলুর ফলন ও ভালো দাম থাকলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রান্তিক আলুচাষিদের। টাকার অঙ্কে এই লোকসানের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪৬ কোটির বেশি।

সূত্রে জানা গেছে, তানোরের দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে এবার কথিত ঢলনের নামে প্রতি বস্তায় পাঁচ থেকে সাত কেজি করে আলু বেশি নিচ্ছেন মৌসুমী মধ্যস্বত্ত্বভোগী, দালাল ও ফড়িয়ারা। এমনকি ৫০ কেজির বস্তার পরিবর্তে পাটকলে অর্ডার দিয়ে ইচ্ছেমতো বস্তা তৈরি করেও আলু সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ নিয়মানুযায়ী বস্তার গায়ে ধারণক্ষমতা ও বস্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন আলুচাষি কৃষক। এসব নিয়ে কৃষকেরা প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তানোরে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি প্রায় ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর। সেই হিসেবে তানোরে মোট আলু উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। এতে মোট বস্তা হওয়ার কথা ৬৬ লাখ ২৫ হাজার। তবে মোট আলুর ৯০ শতাংশ আলু বস্তাবন্দী হয়। ৫০ কেজির বস্তার হিসাবে মোট বস্তা দাঁড়ায় ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি। প্রতি বস্তায় ঢলন হিসেবে ৬ কেজি অতিরিক্ত নিলে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ কেজি আলু লোকসান হচ্ছে কৃষকের। যার বাজারমূল্য ১৩ টাকা কেজি হলে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

তানোর পৌরসভার হরিদেবপুর মহল্লার আলুচাষি সুকুমার, রবিদাস, সুমাসপুর মহল্লার মেহেদী হাসান, চাপড়া মহল্লার মোক্তার হোসেন, তালন্দ ইউপির কালনা গ্রামের মাহাবুর রহমান মাহামসহ অনেকে বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকে ঢলনের নামে বস্তায় পাঁচ থেকে সাত কেজি করে আলু বেশি নিচ্ছেন দালাল ও ফড়িয়ারা। এতে আর্থিকভাবে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে বিভিন্ন জেলার বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তখন প্রতি বস্তায় দু-তিন কেজি আলু বেশি দিয়ে বিক্রি করতে হয়। তা ছাড়া আলু কাঁচা থাকায় কয়েক দিন পর ওজন কিছুটা হলেও কমে যায়। তাই প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কেনার সময় একটু বেশি করে নেওয়া হচ্ছে।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এ মৌসুমে উৎপাদিত ৮৭ লাখ ১৭৫ মেট্রিক টন আলু তানোরের ৫টি হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা যাবে। কিন্তু বস্তার ধারণ ক্ষমতায় কারচুপি করে আলু ক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজখবর নেওয়া হবে। এ নিয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular