ঔষধি পাতা থানকুনি

0
888

 এস এম আশরাফুল আলম

আমাদের দেশে থানকুনি অতি পরিচিত ভেষজ পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে দেখা মেলে থানকুনির। কথায় আছে-পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্সকরা বলেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য  সতেজ থাকে পাশাপাশি বাচ্চাদের ছোট বেলা থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। যৌবন ধরে রাখা এবং সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণাগুণঃ
১. পেটের রোগ নির্মূলে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
২. আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায়। থানকুনি পাতা খেলে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।
৩. Bacoside A ও B। Bacoside B এই থানকুনি পাতায় থাকে মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য
করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে থাকে।
৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার
রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ রাখে।
৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধে না সারলে,থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে
যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।
৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া বন্ধ করে,নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৮. বয়স বাড়া সত্বে, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে     ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে।
৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনি পাতার জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় সহজেই।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে