খন্দকার মেহেদী হাসান (পত্নীতলা) নওগাঁঃ সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা কে.এম. মোতায়েম হোসেন টুকু (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে নওগাঁ লোহাচুড়ার শনিবার (২৪ জুলাই, ২০২১) সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না…….রাজিউন)।
পিতা মাওলানা আশরাফ আলী খন্দকার (রাণীনগরী) ছিলেন অবিভক্ত বাংলার কৃষক প্রজাপাটির যুগ্ম সম্পাদক।মুক্তিযোদ্ধা মোতায়েম হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তথ্য সংগ্রহকালে বগুড়া রেলস্টেশনে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে ধৃত হন।
ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন নাটোরে বম্বিং করছিল ১৪-ডিসেম্বর তিনি ৫৭ জন সঙ্গী নিয়ে জেল ভেঙে পালিয়ে আসেন। জেলখানায় থাকাকালীন তিনি রাণীনগর থানা রাইফেল লুটে ছিলেন। সান্তাহারে বিহারী কাটাকাটিতে অংশ গ্রহণ করেন। এ গুলি নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করেন। তিন বার কয়েদীদের নিয়ে ক্রশ ফায়ারে অন্যদের মারলেও হানাদাররা টুকুকে ফিরিয়ে আনেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নাটোর ছিল হানাদার বাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় হেড কোয়ার্টার। জয়পুরহাটে বড় বোনের বাসায় থেকে জয়পুরহাট কলেজে অধ্যায়নকালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
দেশপ্রেমিক, ত্যাগী এই মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন ও আশা ছিল জয়পুরহাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করার। জয়পুরহাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরি চালু না হওয়ায় অন্য কোনো চাকুরিতে যান নাই। মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও নেন নাই। সমাজ সেবক টুকু বাবা রাণীনগরীর মতো বিভিন্ন প্রতিষ্টান প্রতিষ্ঠা ও সেবা দিয়ে গেছেন।
১৯৯৩ সালে নওগাঁ জেলা থেকে প্রশিক্ষন কর্মকর্তাকে নিজ গ্রামে এনে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
আশার আলো প্রশিক্ষিত যুব মৎস্য সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও ইউ.এন.ও. চন্দ্রনাথ বসাক কে লোহাচুড়ায় এনে পতিত জলাশয়গুলিতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের সূচনা করেন।
তিনি ছিলেন ইরানের খোরাসান থেকে আগত ইসলাম প্রচারক পীরে কামেল হজরত শাহ কাঙ্গাল (র.) এর একজন ভক্ত ও খাদেম।
উল্লেখ্য, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী এই পীরের মাজারে ৭ বছর আরাধনা করেন। টুকু ছিলেন এই পীরের বংশধর। আজকে রোববার বাদ যোহর জানাজা শেষে দাফন হবে।

