গ্রামীণ কৃষি ডেস্কঃ বঙ্গবীর শমসের গাজী, হারিয়ে যাওয়া এক বিপ্লবী নায়ক।
১৭৬৪ সালে ত্রিপুরার রাজার বিরুদ্ধে শমসের গাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত কৃষক আন্দোলন কুমিল্লা অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও শমসের গাজী সম্পূর্ণ চাকলা রওশানাবাদ অঞ্চলের শাসক হয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে দক্ষিণ কুমিল্লা থেকে উত্তর নোয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
এক সময় তিনি সমগ্র কুমিল্লাকে তার শাসনাধীনে নিয়ে আসেন। পরবর্তীকালে তিনি নিজামপুর পরগনা জয় করেন। এভাবে তিনি মেঘনা, মুহুরি ও মনুগঙ্গা নদীসমূহের মধ্যবর্তী বিশাল জনপদের মুকুটবিহীন রাজায় পরিণত হন।
ত্রিপুরা রাজবংশকে উচ্ছেদ করার পর শমসের গাজী আগরতলা থেকে উদয়পুরে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে তার শাসন পরিচালনা করতেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত চম্পকনগর গ্রাম থেকে।
ফেনীর শুভপুর বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে চম্পকনগর গ্রাম। এই চম্পকনগরেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন রাজপ্রাসাদ, দরবার হল, অস্ত্রাগার সহ তার বিশাল আবাসস্থল।
এখানে তার বাসস্থানের স্মৃতি চিহ্ন এখনো বিলীন হয়ে যায়নি। কিছু ধ্বংসাবশেষ, যেমন প্রাসাদের নিরাপত্তার জন্য খনন করা গড়খাই (খন্দক), রাজপ্রাসাদের মাঝখানে তৈরি এককুল্লা দীঘি, পাহাড় কেটে তৈরি সুড়ঙ্গ পথ ইত্যাদি টিকে আছে এখনো।
তবে তার বাড়ি ও দিঘীর বড় অংশই রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের সীমানায়।
** তথ্যসূত্রঃ শমশের গাজী – আহমদ মমতাজ, প্রকাশনায় বাংলা একাডেমি-২০১৩।
