বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম মহানগরট্রেড লাইসেন্স বিহীন নগরীর দোকানপাট

ট্রেড লাইসেন্স বিহীন নগরীর দোকানপাট

নাজমুল হক বিলাস

এই শহরের আনাচে কানাচে আমরা অনেক রকম দোকান দেখতে পাই। এসব দোকানে বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। নাগরিক সুবিধার জন্য সরকার এসব দোকানের অনুমোদন দিয়ে থাকে। এতে মানুষ তার প্রয়োজন মত পণ্য বা জিনিসপত্র হাতের কাছেই পেয়ে যায়। মানুষ যখন যা প্রয়োজন এই সকল দোকান থেকে তা ক্রয় করে নেয়। এসব দোকান হতে পারে এলাকার ভিতরে, ছোট রাস্তার ধারে, বড় রাস্তার ধারে, মানুষের বাড়িঘরের সাথে, আবাসিক স্থানে, বাণিজ্যিক স্থানে, বাজারে, রাস্তার শেষ প্রান্তে ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে মানুষ দোকান বসিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকে।

এসব দোকান বসানোর আগে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ যে কোনো ব্যক্তি এই দোকান করুক না কেন বা যা কিছু বিক্রি করুক না কেন তাকে অবশ্যই সরকারের নির্দেশে দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতেই হবে। এই অনুমোদন অর্থ হচ্ছে তাকে লাইসেন্স নিতে হবে যা আমরা সহজ কথায় ট্রেড লাইসেন্স বলে চিনি। স্থান ভেদে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের দপ্তর বিভিন্ন। সাধারণত বড় শহর এলাকার ভিতরে হলে সিটি কর্পোরেশন লাইসেন্স প্রদান করে থাকে পৌর এলাকার হলে পৌর সভার দায়িত্ব এবং অন্যান্য এলাকার হলে সেখানকার স্থানীয় সরকার দায়িত্ব পালন করে থাকে। নিয়ম হচ্ছে ব্যবসার শুরুতেই এই লাইসেন্স নিতে হবে অতঃপর দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করা। আবার প্রতিবছর এ লাইসেন্স রিনো করা। লাইসেন্স নেওয়া এবং রিনো করার সময় নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হয় যা সরকারের রাজস্ব খাতে চলে যায়। এখান থেকে সরকারের একটি বড় রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে যা সরকার রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

ছবিঃ সংগৃহীত

কিন্তু পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করা যায় অধিকাংশ দোকানপাট মালিকরা কোন লাইসেন্স গ্রহণ করেন না এবং লাইসেন্স করলেও এগুলো রিনো করেন না অথচ নির্ধিদায় তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে যান যা রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুসারে একান্ত অনুচিত। রাষ্ট্রে মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত কিছু নিয়মকানুন রয়েছে যেগুলো মেনে চলা নাগরিকের জন্য একান্ত কর্তব্য। রাষ্ট্রের জনগণের সুবিধার জন্যই এসব আইন-কানুন করা হয়েছে এবং সরকারকেও উন্নয়ন কাজ করার জন্য অর্থের প্রয়োজন এবং এই অর্থ জনগণের কাছ থেকেই আসে। সাধারণ মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে লাইসেন্স করা, নবায়ন, রাজস্ব প্রদান, ভ্যাট প্রদান এসবের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হয়ে থাকে পরিবর্তে সরকার তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে সহজে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে তার সুবন্দোবস্ত করে থাকে। দোকান মালিকগণ যদি এই সকল অর্থপ্রদান না করেন তাহলে সরকারও তাদের জন্য কাজ করতে অসমর্থ হয়।

দেখা যাচ্ছে দোকান মালিকেরা বছর বছর লাইসেন্স না করা এবং নবায়ন না করার মধ্য দিয়ে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন। এটা একান্তই অনুচিত। এর মাধ্যমে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেইসাথে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হচ্ছে। এর মাধ্যমে যে শুধু রাষ্ট্রেরই ক্ষতি হচ্ছে তা নয় আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

কাজেই উচিত হবে যে যেখানেই দোকান শুরু করুন না কেন, যে ব্যবসায়ী করুক না কেন, অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স করা এবং প্রতিবছর তা নবায়ন করা। সেইসাথে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ট্রেড লাইসেন্স করা এবং নবায়ন করার জন্য সহজ পন্থা অবলম্বন করা যাতে সম্মানিত দোকান মালিক গন কোন হয়রানির শিকার না হন। তারা সহজেই যেন ট্রেড লাইসেন্স করতে পারেন এবং নবায়ন করতে পারেন। এ বিষয়টা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আশা করা যায় সকল দোকান মালিক গণ এই ব্যবস্থার মধ্যে আসবেন এবং ট্রেড লাইসেন্স করবেন এবং প্রতি বছর নবায়ন করে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজে শরিক হবেন।

**মতামতের জন্য সম্পাদক / প্রকাশক দায়ী নয়

প্রিয় পাঠক,আপনিও গ্রামীণ কৃষির অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন,স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন  grameenkrishi2016@gmail.com - এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular