রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম গ্রামগঞ্জতানোরে সার সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক

তানোরে সার সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে একশ্রেণীর বিসিআইসি সার ডিলার সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে সারের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর বৃহস্প্রতিবার তানোর পৌর এলাকার জিওলচাঁদপুর গ্রামের কৃষক ওমর হাজী, আব্দুল গণি ও আব্দুল গাফ্ফার ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও)কাছে লিখিত অভিযোগ করে এর অনুলিপি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দিয়েছেন।

এদিকে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ন্যে এমওপি (পটাশ) সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, এতে আগাম জাতের আলু চাষিরা (কৃষক) ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কৃষক ওমর হাজী অভিযোগে জানান, তানোর পৌর এলাকার শিবনদীর পাড়ে রহিমাডাংগা মৌজায় বন্যার পানি নেমে যাবার পর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপন করে থাকেন। প্রতি মৌসুমের ন্যায় এবারো প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক দেড় হাজার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কিন্তু বীজ ও জমি প্রস্তুত করা হলেও এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার সংকটে আলু বীজ রোপন করতে পারছেন না তারা। তবে, দুয়েকজন কৃষক বিভিন্ন কৌশলে বেশি দামে সার সংগ্রহ করে আলুর বীজ রোপন করছেন।

কিন্তু প্রায় সিংহভাগ কৃষক এখানো এসব সার সংগ্রহ করতে পারেননি। কৃষক আব্দুল গাফ্ফার জানান, আলুর জমিতে যখন সার প্রয়োগের সময় তখন ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় এমওপি ও ডিএপি সার মজুদ করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি দেখান। ফলে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে হাহাকার শুরু হয়।

এই সুযোগে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় ডিএপি সারের দাম নেয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকা। আর এমওপি (পটাশ) সারের দাম নেয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা। সরকারি মূল্যের চেয়ে এভাবে বেশি দামে সার বিক্রি করে অধিক মুনাফা আদায় করছেন ডিলাররা। কিন্তু প্রান্তিক কৃষকরা ডিলারের চাহিদা মত টাকা না দিলে সার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে এমওপি ও ডিএপি সার কিনছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, খোলাবাজারে ইউরিয়া টিএসপি সার পাওয়া গেলেও পটাশ ও ডিএপি সার সহসায় মিলছে না। ডিলারদের কাছে এসব সার কিনতে গেলে তারা সাপ্লাই নেই বলে ডিএপি’র বদলে টিএসপি সার নেয়ার জন্য কৃষকদেরকে বাধ্য করছেন। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে, চলতি মৌসুমে কৃষি কর্মকর্তা ডিলারদের মধ্যে বরাদ্দ সার বিভাজনের পরিমান জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এক্ষেত্রে সার মনিটরিং কমিটির কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না থানায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স প্রাইম ট্রের্ডাস, কামারগাঁ বাজারের মেসার্স মৌসুমি ট্রেডার্স ও তালন্দ বাজারের মেসার্স সুমন ট্রেডার্স। এরা সিন্ডিকেট করে উপজেলায় এমওপি ও ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। এছাড়াও এসব ডিলার বাফা’র গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নীচে দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা গুণাগুণ নষ্ট হওয়া সার কম দামে কিনে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে।

এব্যাপারে উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু বলেন, সিন্ডিকেট নয় এমওপি (পটাশ) সারের এখন কোন সরবরাহ নেই। কিন্তু ডিএপির বদলে টিএসপি দিয়ে কৃষকদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে বেশি মূল্যে নয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সব ধরণের সার বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, ডিলারদের মধ্যে সার বরাদ্দ বিভাজনের তথ্য তার জানা নেই। আর এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার চাহিদামত সরবরাহ নেই। এজন্য সাময়িক সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে, আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে চাহিদামত বরাদ্দ পেয়ে যাব। তবে, সংকট দেখিয়ে কৃষকের কাছে সারের বেশি দাম নেয়ার প্রমান পাওয়া গেলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ্রামীণ কৃষি/আজাদ

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular