তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) অমৃতপুর উপজাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক, আব্দুস সবুরের বেত্রাঘাতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম (১০) গুরুত্বর অসুস্থ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল রোববার শিক্ষার্থীর পিতা আতাউর রহমান বাবু বাদি হয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (টিও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক মহল অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অভিযোগে প্রকাশ, গত ১৬ এপ্রিল শনিবার স্কুল চলাকালীন সময়ে চিপস্ খাবার অপরাধে চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামকে (১০) বেত্রাঘাত করেছে প্রধান শিক্ষক। বাড়ি ফিরেই আশরাফুল গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে আশরাফুল সুস্থ হলেও তার চোঁখমুখে আতঙ্কের ছাপ রয়ে গেছে। ওই শিক্ষক থাকলে সে আর স্কুলে যাবে না স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে আশরাফুলের বেত্রাঘাত দেখে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল আশা বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিভাবক মহলের ভাষ্য, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সবুরকে অপসারণ করা না হলে, তারাও তাদের সন্তানদের এই স্কুলে আর লেখাপড়া করাবেন না। স্থানীয় অভিভাবক, সেকেন্দার আলী, আবুল কালাম ও বিনোদ হেমরম বলেন, প্রধান শিক্ষক সবুর এর আগে এক আদিবাসি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে বেশ কিছুদিন কারাভোগ করেছেন। এই ক্ষোভে উপজাতি পাড়া স্কুল হলেও উপজাতি কোনো ছেলেমেয়ে এখানে পড়ালেখা করে না। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী প্রহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্কুলের মাঠে ভাড়া দিয়ে কচু চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শাসন করেছেন মাত্র। এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) সানাউল ইসলাম বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে অবহিত করা হয়েছে। এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করা দুঃখজনক ঘটনা।
