তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) মজা পুকুর পুনঃখনন ও পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসির ভাষ্য, তানোরে বিএমডিএ’র পুকুর পুনঃখনন ও পুকুর পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। তারা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন তদন্তপুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে তানোরে বিএমডিএ কতটি পুকুর পুনঃখনন, কত টাকা ব্যয়ে কতটি পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, প্রকল্পগুলোর কি অবস্থা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয়ে কোনো সুনিদ্রিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বিএমডিএ তানোর জোন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় অসমর্থিত সুত্র জানায়,একটি ফলজ গাছের চারা আড়াইশ এবং ওষুধী-বনজ চারার ষাট টাকা মূল্য ধরা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা জানা গেছে, তানোর পৌরসভার তাঁতিয়াকুড়ি-মথুরাকুঁড়ি মাঠে একটি মজাপুকুর পুনঃখনন ও পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। সুত্র জানায়,বিএমডিএ’র ‘পুকুর পুনঃখনন ও ভু-উপরিস্ত পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচে ব্যবহার প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ কর্মসুচি’ প্রকল্পের কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোমায়রা এন্টারপ্রাইজ।
এদিকে পুকুরপাড়ে ফলজ-বনজ ও ওষুধি,গাছের ৩ হাজার চারা রোপণের কথা বলা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অর্থবছর ২০২০-২০২১ দেখানো হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সঙ্গে এসব তথ্যর কোনো মিল নাই। অন্যদিকে প্রকল্প স্থানে উল্লেখিত সংখ্যক চারার অস্তিত্ব না থাকলেও ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে বিল প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
গত ৩১ মার্চ বৃহস্প্রতিবার সরেজমিনে তাঁতিয়াকুঁড়ি-মথুরাকুঁড়ি দেখা যায়, হোমায়রা ইন্টারপ্রাইজ তার কাজের এলাকা জুড়ে এক হাজারের মতো চারা রোপন করেছে। যার মধ্যে হাতেগোনা দু’একটি ফলজ গাছ বাঁকি মেহগনি ও আকাশমনি জাতের বনজ বৃক্ষের চারা রোপন করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ গাছের চারা মরে শুকিয়ে গেছে।অপরদিকে ফলজ বলতে দুই-একটি জাম ছাড়া তেমন কোন ফলজ বৃক্ষের অস্তিত্ব মেলেনি প্রকল্প এলাকায়। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মাহাফুজুল হক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোমায়রা এন্টারপ্রাইজের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

