- বিজ্ঞাপন -
হোম গ্রামগঞ্জতানোরে ওএমএস লাইন দীর্ঘ হচ্ছে

তানোরে ওএমএস লাইন দীর্ঘ হচ্ছে

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস)”র মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রয়কেন্দ্র গুলোতে সাধারণ মানুষের সাড়ি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম এবং কতিপয় ডিলারের অনিয়মের কারণ চাল ও আটা কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই। সেই জন্য ওএমএসের বরাদ্দ ও বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর পাশাপাশি বিক্রয়কেন্দ্রে সার্বক্ষনিক সরকারী কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি রাখার দাবি করেছেন সাধারণ মানুষেররা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, গত ৪ জানুয়ারী থেকে তানোর ও মুন্ডুমালা পৌরসভায় মোট ৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস চাল ও আটা বিক্রি শুরু করছে। শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন একজন ডিলার এক হাজার কেজি আটা ও এক হাজার কেজি চাল বরাদ্দ পাবেন।

প্রতিদিন প্রত্যেক ডিলার ২০০ জনকে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি করে আটা ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি করছেন। মুন্ডুমালা পৌর এলাকার কাউন্সিল মোড়ে চাল ও আটা কিনতে আসা লাইনে দাঁড়িয়া থাকা একাধিক ক্রেতা জানান, বাজারে ধান, চাল, আটাসহ ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রমশ বাড়ায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্বল্প আয়ের খেটে থাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ভোগ্যপণ। তাই সাধারণ মানুষ বাজারে বেশী দামে চাল ও আটা কিনতে পারছেন না। কিন্ত্ত এই ডিলার বরাদ্দের পুরো মাল এলকায় নিয়ে আসেন না কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও প্রতিকার মিলছে না।

পাঁচন্দর এলাকা থেকে আসা রিয়াজ আলী (৪৫) ও মমেনা বলেন, বাজারে এক কেজি মোটা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এত টাকা দিয়ে চাল কিনব কী করে। তাই সরকারী চালের জন্য এখানে এসেছি, তবে তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র একদিন ৫ কেজি চাল পেলেও আটা পাননি।

অন্যদিকে তানোর পৌরসভার গোকুল এলাকার রেজাউল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম এবং আকচা ও রায়তানবর্ষ এলাকার শেফালী খাতুন, শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকার ডিলারের দুর্নীতির কারণে গরীব মানুষ সরকারের দেয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কতিপয় ডিলারদের অনিয়মের কারণে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল ও আটা কিনতে হয়। তবে সিংহভাগ সময় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।

আব্দুল জব্বার বলেন, আমি একজন অসুস্থ রোগী বেশী সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। ডিলারদের অনুরোধ করেও আজ আটা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ছেলে মেয়েদের সকালে কি খাওয়াবো এই চিন্তায দিশেহারা হয়ে পরেছি। তিনি আরো বলেন, অসুস্থ্য ব্যক্তিদের পৃথকভাবে চাল, আটা দেওযার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে আমার মত অসুস্থ্য, প্রতিবন্ধিদের এত কষ্ট করতে হবে না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলেন, চাল ও আটার বরাদ্দ বাড়ানোর নির্দেশনা এখানো আসেনি। তাই এই মুহুর্তে চাল ও আটার বরাদ্দ বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি। বরাদ্দ বাড়ানো হলে ডিলারদের চাল ও আটার পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

তানোর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, কাউন্সিল মোড়ের ডিলারের বিরুদ্ধে অনেকে মৌখিক অভিযোগ করেছে, তিনি বলেন, ডিলারকে সতর্ক করা হয়েছে, তাছাড়া গুদামের বাইরে কোনো ঘটনা ঘটলে সেই বিষয়ে তার কিছু করনীয় নাই।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular