শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম ধর্মআশুরার রোজার ফজিলত

আশুরার রোজার ফজিলত

গ্রামীণ কৃষি ডেস্কঃ মুহাররমের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা মুকাররমায় ছিলেন তখনও আশুরার দিন রোযা রাখতেন। এরপর যখন মদীনা মুনাওয়ারায় গেলেন তখন নিজেও রোযা রাখতেন অন্যদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। তাছাড়া রমযানের রোযা ফরয হওয়ার আগে এই রোযা ফরয ছিল।

যখন রমযানের রোযা ফরয হল তখন আশুরার রোযা কেবল নফল রোযা হিসাবে নির্ধারিত হল। তবে সাধারণ নফল রোযার চেয়ে তার গুরুত্ব বেশি।আবু কাতাদাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,صيام يوم عاشوراء، إني أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبلهআশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। ( -সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮)

ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, أن رسول الله ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء، فقال لهم رسول الله ﷺ: ما هذا اليوم الذي تصومونه؟ قالوا هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه، وغرق فرعون وقومه فصامه موسى شكرا فنحن نصومه. فقال رسول الله ﷺ : فنحن أحق وأولى بموسى منكم. فصامه رسول اللهﷺوأمر بصيامهরাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করছে।

তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোন্ দিন যে তোমরা রোজা পালন করছ? তারা বলল, এটা এমন এক মহান দিবস যেদিন আল্লাহ মুছা আ. ও তার সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন মুছা আ. শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। এ কারণে আমরাও রোজা পালন করে থাকি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমাদের চেয়ে আমরা মুছা আ. এর অধিকতর ঘনিষ্ট ও নিকটবর্তী।”

অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ রোজা পালন করলেন ও অন্যদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন। ( মুসলিম হা/ ১১৩০)আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন,حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ “فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ”. قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺযখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আশুরার রোজা রাখলেন এবং (অন্যদেরকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।

লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটিতো এমন দিন, যাকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বড় জ্ঞান করে, সম্মান জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আগামী বছর এদিন আসলে, আমরা নবম দিনও রোজা রাখব ইনশাল্লাহ। বর্ণনাকারী বলছেন, আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত হয়ে গিয়েছে। ( মুসলিম হা/১৯৪৬)

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, صوموا عاشوراء وخالفوا فيه اليهود، صوموا قبله يوما أو بعده يوما‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’(-মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’-(সহীহ মুসলিম ১/৩৫৯)হাদীস শরীফ থেকে আশুরা সম্পর্কে আমরা এই হেদায়েতও পাই যে, আশুরার সঙ্গে ৯ মুহাররমের রোযা রাখাও ভালো। বরং আশুরার সঙ্গে যদি ৯ বা ১১ মুহাররমে রোযা রাখা যায় তাহলে আরও ভালো। আশুরার রোযা সংক্রান্ত হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তলাবায়ে কেরাম ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ.-এর কিতাব ‘লাতাইফুল মাআরিফ ফীমা লিমাওয়াসিমিল আমি মিনাল ওয়াযাইফ’ মুতালাআ করতে পারেন। (দ্রষ্টব্য উক্ত কিতাবের ১০২-১২৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশক : দারু ইবনে কাসীর, বৈরুত, ১৪২৪ হিজরীর সংস্করণ)।

উপরোক্ত হাদীছ সমূহ পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে। যেমন-

(১) আশূরার ছিয়াম ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার (আঃ) শুকরিয়া হিসাবে পালিত হয়।

(২) এই ছিয়াম মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদী শরী‘আতে চালু ছিল। আইয়ামে জাহেলিয়াতেও আশূরার ছিয়াম পালিত হ’ত।

(৩) ২য় হিজরীতে রামাযানের ছিয়াম ফরয হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ছিয়াম সকল মুসলমানের জন্য পালিত নিয়মিত ছিয়াম হিসাবে গণ্য হ’ত।

(৪) রামাযানের ছিয়াম ফরয হওয়ার পরে এই ছিয়াম ঐচ্ছিক ছিয়ামে পরিণত হয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিয়মিত এই ছিয়াম ঐচ্ছিক হিসাবেই পালন করতেন। এমনকি মৃত্যুর বছরেও পালন করতে চেয়েছিলেন।

(৫) এই ছিয়ামের ফযীলত হিসাবে বিগত এক বছরের গোনাহ মাফের কথা বলা হয়েছে। এত বেশী নেকী আরাফার দিনের নফল ছিয়াম ব্যতীত অন্য কোন নফল ছিয়ামে নেই।

(৬) আশূরার ছিয়ামের সাথে হযরত হুসায়েন বিন আলী (রাঃ)-এর জন্ম বা মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই।

হুসায়েন (রাঃ)-এর জন্ম মদীনায় ৪র্থ হিজরীতে এবং মৃত্যু ইরাকের কূফা নগরীর নিকটবর্তী কারবালায় ৬১ হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর ৫০ বছর পরে হয়।মোট কথা আশূরায়ে মুহাররমে এক বা দু’দিন স্রেফ নফল ছিয়াম ব্যতীত আর কিছুই করার নেই। শাহাদতে হুসায়েনের নিয়তে ছিয়াম পালন করলে ছওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ কারবালার ঘটনার ৫০ বছর পূর্বেই ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং অহি-র আগমন বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্রামীণ কৃষি/ রমিজ

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular