সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
গন্ডার পোকা নারিকেল গাছের অন্যতম ক্ষতিকর পোকা, যা গাছের কচি অগ্রভাগে আক্রমণ করে এবং গাছের ফুল, ফল ও বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এর জীবনচক্র, ক্ষতির ধরণ এবং দমন পদ্ধতি জানলে আপনি সহজেই এই পোকার প্রভাব কমাতে পারবেন।
জীবনচক্রঃ
গন্ডার পোকা সাধারনত গোবর বা ময়লা আবর্জনায় ডিম পাড়ে ।
১২-২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে সাদা রঙের গ্রাব বের হয় এবং ৪-৫ মাস পর পূর্ণাঙ্গ পোকা হয়ে নারিকেল গাছের কচি অংশ খেতে থাকে।
পূর্ণাঙ্গ পোকা প্রায় ১ মাস বাঁচে খাদ্য ছাড়া, তবে খাদ্য পেলে ২০০ দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
ক্ষতির ধরণঃ
পূর্ণাঙ্গ পোকা নারিকেল গাছের কচি অগ্রভাগে গর্ত করে ঢুকে পড়ে এবং রস খেয়ে গাছের ফুল ও ফল ধারণ ব্যাহত করে।
আক্রান্ত অংশগুলো পঁচে যায় এবং গাছটি দুর্বল হয়ে পড়ে। গুরুতর আক্রমণে গাছ মারা যেতে পারে।
দমন পদ্ধতিঃ
গর্ত পরিষ্কার করা: আক্রান্ত গাছের গর্তে লোহার শিক ঢুকিয়ে কীড়াগুলো মেরে ফেলুন।
সার ও কীটনাশক ব্যবহার: গর্ত পরিস্কার করে সিরিঞ্জ/তুলার দ্বারা কেরসিন, প্রেট্রোল, অথবা ডায়াজিনন ৫-৬ মিলি ঢুকিয়ে গর্ত বন্ধ করুন।
গাছ পরিস্কার রাখাঃ গাছের আশপাশ থেকে গোবর বা আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন। বছরে দুইবার সুষম সার প্রয়োগ করুন।
আলোর ফাঁদ ব্যবহারঃ পূর্ণাঙ্গ পোকা ধরে মেরে ফেলতে আলোর ফাঁদ পেতে দিন।
পচা খৈল বা ভেরেন্ডা বীজ ব্যবহারঃ গাছের নিচে পচা খৈল অথবা ভেরেন্ডা বীজের গুড়া পানিতে জ্বাল দিয়ে দ্রবণ তৈরি করুন, পোকা এতে আটকে মারা যাবে।
গাছ ছাঁটাইঃ বর্ষা শেষে গাছের মৃত বা অর্ধমৃত ডালপালা ছাঁটাই করে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। আক্রান্ত অংশগুলো পোকাসহ সংগ্রহ করে পুতে ফেলুন।
কীটনাশক স্প্রেঃ কার্বারিল ৮৫ ডব্লিউপি (সেভিন/ভিটাব্রিল) ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
এটি নিয়মিত প্রয়োগ করলে গন্ডার পোকা থেকে নারিকেল গাছ রক্ষা করা সম্ভব।
লেখকঃ কৃষিতে বারো মাস গ্রন্হ সহ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্হের লেখক
সভাপতি- বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)
সাধারণ সম্পাদক- আমরা পল্লবী বাসী, মিরপুর, ঢাকা।
উপদেষ্টা-দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, অগ্নিবার্তা পত্রিকা।
কথকঃ বাংলাদেশ বেতার।
