খাগড়াছড়িঃ পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের মংজাই কার্বারী পাড়া গ্রামে বসবাস করেন কৃষাণী ক্রাইঞো মারমা বয়স৫০ ক্রাইঞো মারমার স্বামী স্বামী মংহ্লাউ মারমা বয়স ৬০ পেশায় একজন দিন মজুর। ক্রাইঞো মারমার কোন জমি নেই তার বসত বাড়ি উচু টিলা ভূমির উপর নির্মিত। সেখানেই কিছু ফল, সবজি চাষ করে পরিবারের আংশিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে নিয়মিত পরিশ্রম করেন তিনি। কিন্তু পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য বাড়তি কোন আয়ের ব্যবস্থা নেই তার দিন মজুর স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করেই তাকে সংসার ও ছেলেদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হয়। পরিবারের আয় বৃদ্ধির লক্ষে ক্রাইঞো মারমা ২০২০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এসআইডি-সিএইচটি, ইউএনডিপি কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় মৌ-চাষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ২টি মৌ বক্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গ্রহণ করেন।
অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর জন্য প্রথমে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে মৌ কলোনী খুঁজতে শুরু করেন এবং প্রাথমিক ভাবে ২টি মৌ কলোনী সংগ্রহ করে সফল ভাবে বক্সে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন। সেখান থেকেই তার আগ্রহ বৃদ্ধি হতে থাকে। এর পর প্রতিনিয়ত মৌ কলোনী সংগ্রহ করে এবং যখনই একটি বক্সে নতুন রাণীর সৃষ্টি হয় তখন তিনি রাণী বিভাজন করে নতুন নতুন মৌ বক্সে প্রতিস্থাপন করতে থাকেন।
বর্তমানে তার বাড়ির আঙ্গিনায় ২৪ টি মৌ কলোনী বক্সে স্থাপন করা রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে যখন পরিবারের টানাপোড়েন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল এবং তার স্বামীর কোন উপার্জন ছিল না তখন তিনি মধু বিক্রয় করে তা দিয়েই পরিবারের খাদ্যের সংকট মোকাবেলা করেছেন।
গ্রামীণ কৃষি / এম.জুলফিকার আলী ভুট্টো

