- বিজ্ঞাপন -
হোম গ্রামগঞ্জএমপি আয়েন উদ্দিনকে নিয়ে প্রপাগান্ডা জনমনে ক্ষোভ

এমপি আয়েন উদ্দিনকে নিয়ে প্রপাগান্ডা জনমনে ক্ষোভ

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহী-৩ (মোহনপুর-পবা) সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ বিলাস ও প্রচার বিমূখ, কর্মী-জনবান্ধব, আদর্শিক, প্রধানমন্ত্রীর বিশস্ত ও তরুণ নেতৃত্ব আয়েন উদ্দিন এমপিকে নিয়ে প্রপাগান্ডা ও তার বিরুদ্ধে ফের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, মিথ্যা-ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মানহানিকর খবর প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বিপদগামী কতিপয় নেতা এমপি হবার খোয়াব দেখে রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তিনি নির্বাচনের পুর্ব মুহুর্তে বিভিন্ন কৌশলে এমপিকে চাপে ফেলে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি তার কৌশল বাস্তবায়নের জন্যই তার নিজস্ব লোকজন দিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এদিকে এমপির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিরাজ করছে বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি।

স্থানীয়রা বলছে, আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ মানে তিনি সংসদীয় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি। তাহলে তার বিরুদ্ধে অসত্য বা মানহানিকর খবর প্রকাশ করা মানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই সেই খবর প্রকাশের সামিল নয় কি?

আগামি সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে এমপি আয়েন উদ্দিনের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত এখানে তার কোনো বিকল্প নাই। ফলে নানা উছিলায় তাকে বির্তকিত করে তার মনোনয়ন ঠেকাতে একটি চক্র এই অপরাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিমত তৃণমুলের।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জামায়াত-বিএনপির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক একশ্রেণীর বিপদগামী নেতার সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট চক্র, দেশে সাধারণ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেই আওয়ামী লীগ দলীয় জনপ্রিয় এমপিদের নিয়ে প্রপাগান্ডা শুরু করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের প্রপাগান্ডার শিকার তরুণ নেতৃত্ব আয়েন উদ্দিন এমপি। এর আগে এই চক্রের প্রপাগান্ডার শিকার হয়েছে ওমর ফারুক চৌধুরী এমপিসহ একাধিক এমপি।

সূত্র বলছে, চক্রটি ভাড়াটিয়া ও পয়সা দিয়ে নিজেদের লোক ঠিক করে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে প্রচার করেছে। তবে এখানে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো দোষ নেই, কারণ তাদের কাজ তথ্য পেলে খবর প্রচার করা,বরং তারা দোষী যারা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য ও তথ্য দিয়েছে। এদিকে আওয়ামী দলীয় সাংসদ জননন্দিত ও গণমানুষের নেতা এমপি আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে একের পর এক গায়েবী খবর প্রচারে যারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে এই জনপদের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এসব মানুষের দাবি যারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন সাংসদের বিরুদ্ধে অসত্য মানহানিকর তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করিয়ে নির্বাচনী এলাকার কয়েক লাখ মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

এমপি আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম অভিযোগ, এমপি হবার পর তার সম্পদ কয়েকগুন বেড়েছে। কিন্তু এখানে অভিযোগের কি আছে তিনি সম্ভ্রান্ত বিত্তশীল পরিবারের সন্তান, রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই তার পরিবার প্রায় ৩০০বিঘা জমি ওয়াকফ্ করেছেন।

এছাড়াও রাজনীতিতে আশার আগে থেকে তিনি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিধি বেড়েছে এটা দোষের কিছু নয়, তিনি কি কোনো অপরাধমুলক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে সম্পদ অর্জন করেছেন করেননি, যদি করে থাকেন তাহলে তারা সেটার সুনিদ্রিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিয়ে প্রকাশ করুক। দ্বিতীয় অভিযোগ তিনি কৃষকের শতশত বিঘা ফসলী জমি দখল করেছেন এটাও ডাহা মিথ্যা-কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন জোর করে কি জমি দখলের দিন আছে?

জোর করে যদি জমি দখল করা যায় তাহলে শতশত কেনো হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করতেন, জমি দখলের কোনো অভিযোগ আছে কি ? তৃতীয় অভিযোগ প্রায় ৩০০ বিঘা আয়তনের তিনটি পুকুরের। এলাকায় করেছেন সুদৃশ্য ভবন, যা জলসাঘর হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই রাজাদের আদলে নারী, মদ ও জুয়ার আসর বসে। তাদের এই অভিযোগ শুধু মিথ্যা নয় মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ।কারন এখানে তিনটি নয় একটি পুকুর ও একটি ভবন রয়েছে যেটা তার রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন।

যদি তানোর-মোহনপুর মিলে সংসদীয় আসন হয় তাহলে তিনি সেখান রাজনীতি করবেন বলে দুই উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ওই ভবন নির্মাণ করে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন, এলাকায় আসলে তিনি এখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চতুর্থ অভিযোগ তিনি শুল্কমুক্ত গাড়ী ও ঢাকায় প্লট কিনেছেন, নির্বাচিত সাংসদরা এমনিতেই শুল্কমুক্ত গাড়ী, প্লট ও ফ্ল্যাট পায় এসব নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নাই।

পঞ্চম অভিযোগ তার পিতা রাজকার ছিলেন, এটা জঘন্যতম মিথ্যাচার কারণ ইউপি সদস্য হবার সুবাদে পাকিস্থানীরা জোর করে তার পিতাকে শান্তি কমিটির সদস্য করেছিল যেটা সবাই জানেন। তাছাড়া পাকিস্থান আমলে গ্রাম বা পঞ্চায়েত প্রধান আর রাজাকার কি একই বিষয় ?

এদিকে এমপি আয়েন উদ্দিনকে নিয়ে প্রপাগান্ডার খবর ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এমপিকে নিয়ে এসব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সভা করে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এদিকে যারা এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে তারা সবায় দীর্ঘদিন ধরে নৌকার বিপক্ষে কাজ করে আসছে। এছাড়াও আগামি সাধারণ নির্বাচনের অন্তিম মুহুর্তে এসব খবর প্রকাশ করায় খবরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সর্বমহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অনুরোধ করেছেন কোনো তথ্য পেলে আগে তার সত্যতা যাচাই-বাছাই করে খবর প্রকাশ করার।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular