মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন লিচু বাগানে মৌচাষিরা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ‘মৌ-বাক্স’ বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। মার্চের প্রথম থেকে এভাবে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। সপ্তাহে মেহেরপুরের এসব লিচু বাগান থেকে ১২ থেকে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষিরা। এসব মধু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। এ হিসেবে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মধু সংগ্রহ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লিচু গাছের নিচে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাঠের তৈরি কৃত্রিম মৌ-বাক্স। সেখান থেকে দলে দলে মৌমাছি বসছে লিচুর মুকুলে। মধু এনে জমা করছে বাক্সে। প্রতি সপ্তাহে সেই বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা।
পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুর গ্রামের মৌচাষি সাহাবদ্দিন বাহাদুর এসেছেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ গ্রামের লিচু বাগানে। সেখান লিচুবাগানগুলোতে তার পালিত মৌমাছির বাক্স বসিয়ে রেখেছেন গাছের নিচে। প্রতিদিন মৌসুমি খুচরা মধু বিক্রেতারা তার কাছ থেকে খাঁটি মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছে ৫শ টাকা কেজি দরে। তারা ফেরি করে বিক্রি করছেন ৭শ টাকা কেজি। বাহাদুর প্রতিদিন এক থেকে দেড়মণ মধু সংগ্রহ করে বিক্রি করেন।
সাতক্ষীরার মৌচাষি কাজি আরিফ এসেছেন মুজিবনগর। তিনি জানান, প্রতি বছরের মার্চে তিনি মেহেরপুরে আম-লিচুর বাগানে মধু সংগ্রহে আসেন। এরপর তিনি উত্তরাঞ্চলে মধু সংগ্রহ করেন। ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি আরিফ আরো জানান, আট মাস তারা বিভিন্ন জেলায় মধু সংগ্রহ করেন। চার মাস তারা বসে থাকেন। এ চার মাস তাদের মৌমাছির খাবার হিসেবে খরচ হয় মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
মেহেরপুরের সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নাসরিন পারভিন জানান, মাটির গুণে মেহেরপুরের সব ধরনের ফল সুস্বাদু। এ কারণেই ফুলের মধুও সুস্বাদু এবং গুণসমৃদ্ধ। এজন্য দেশজুড়ে মেহেরপুরের মধুর সুখ্যাতি আছে। বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা আম-লিচুর মৌসুমে মেহেরপুরে ছুটে আসে মধু সংগ্রহে।
