আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম উন্নয়নমুখী মানসিকতা,বিনয়ী আচরণ এবং তার মেধা ও কর্ম দক্ষতা দিয়ে কাজ করে ইতিমধ্যে তিনি উন্নয়ন ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন এবং পরিচিতি পেয়েছেন।
জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত ধারণা ছিল পিআইও অফিস মানেই নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের বেড়াজাল। কিন্ত্ত পিআইও তারিকুল ইসলাম তার কাজের মাধ্যমে সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন করে ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করেছেন। উপজেলা পিআইও অফিস থেকে নানা ক্রটি-বিচ্যুতি দুর করে মডেল অফিসে রুপান্তরিত করতে নিরলস ভাবে করে চলেছেন এই কর্মকর্তা। তার বদৌলতে এখন পিআইও অফিসের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে গতিশীল হয়েছে কাজ দুর হয়েছে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি। অথচ বিগত দিনে পিআইও অফিস ছিল উমেদার-চাপরাসীদের দৌরাত্ন্য-একচ্ছত্র আধিপত্য।
কর্মকর্তারা সপ্তাহে একদিন অফিসে ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করে চলে যেতো, কাজ না করেই বা নামমাত্র কাজ করে বিল উত্তোলন নিয়মে পরিনত হয়েছিল। কিন্ত্ত প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম (পিআইও) হিসেবে এখানে যোগদানের পর থেকে কোনো হয়রানি ছাড়াই পিআইও অফিস থেকে কাঙ্খিত সেবা পেতে শুরু করেছে। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন ও ৪০ দিনের কর্মসুচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথাও উনিশ-বিশ হতে পারে,তবে কাজ না করে বা নামমাত্র কাজ করে বিল উত্তোলনের সংস্কৃতি দুর হয়েছে। অফিসে ছিমছাম অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ বেড়েছে সেবার মান, বসেছে সিসি ক্যামেরা। এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সরেজমিন, পিআইও অফিসে এমন চিত্রই চোখে পড়ল। অফিসে অতিরিক্ত মানুষের আনাগোনা নেই। কেমন যেন শূন্যতা মনে হল। পিআইও সাহেবের কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখা গেলো সেখানেও আগের তুলনায় সাজসজ্জার মাত্রাটা যেন পাল্টে গেছে, বসেছে সিসি ক্যামেরা সবকিছুতেই সাজানো গোছানো পরিবেশও শান্ত নিরিবিলি। অথচ এই অফিসেই বিগত সময়ে অনেক তদ্বিরবাজদের দেখা যেতো এখন সেখানেও বদলের হাওয়া।
পিআইও প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম কাজে ব্যস্ত এই প্রতিবেদক সালাম দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতেই তিনি বসতে বলে জিজ্ঞেস করলেন কি কাজে এসেছি। এ সময় তার সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পিআইও অফিসের বর্তমান ও অতীত নিয়ে কথা হয়। বিগত সময়ের অনেক বিষয়ে অভিযোগ উঙ্খাপন করতেই, তিনি মৃদু হেসে বলেন, শুনেছি তবে আমার সময়ে এমন কিছু ঘটেনি সম্ভবনাও নেই। অতীতে কি হয়েছে সেটা বড় কথা নয় এখন সবকিছুতেই শৃংখলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। পিআইও অফিস মানেই অনিয়-অসঙ্গতি সাধারণ মানুষের এমন ধারণা বদলে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
সরেজমিন পরিদর্শন ব্যতিত তিনি কোনো প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেন না। তার দিক নির্দেশনায় পিআইও অফিসে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় জবাবদিহিতা ও তদারকি বেড়েছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয়ের সার্বিক সহযোগীতায় তিনি তার কার্যালয়কে ঢেলে সাজিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে এমপি মহোদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ কারণ এখানে রাজনৈতিক কোনো চাপ নাই, সম্পুর্ণ স্বাধীন বা স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করা যায়। এবিষয়ে বাঁধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, পিআইও সাহেব অনেক ভাল মানুষ তার আচার-ব্যবহার অনেক সুন্দর, তিনি প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন ব্যতিত বিল ছাড় দেন না। এবিষয়ে কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী ফরহাদ বলেন, তিনি নতুন চেয়ারম্যান প্রতিটিক্ষেত্রে পিআইও সাহেবের সহযোগীতা পান এবং তিনি অত্যন্ত ভদ্র মানুষ তার মাঝে কোনো অহংকার নাই।
