তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে আলুর নায্যে মুল্য না পেয়ে কৃষকেরা অনেকটা দিশেহারা। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আলুচাষ করে লোকসানের বোঝা নিয়ে তাদের মাথায় হাত। আগামিতে লোকসান শেষ পর্যন্ত কত হবে সেই হিসাব কষছেন তারা।
এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আলুর দামে ধ্বস, বাজারে প্রতি কেজি আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ছয়-আট টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ টাকা। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।
তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। উপজেলায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ও অ্যাস্টেরিক জাতের আলু বেশি চাষ হয়। আর সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয় তানোর উপজেলায়। দফায় দফায় বন্যা ও করোনা মহামারীতে সবজিতে বেশ টান পড়ে। বাড়তে থাকে সবজির দাম। বিগত বছরে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় আলু চাষে ঝুঁকে পড়ে উপজেলার কৃষকেরা। গত বছর মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে।
কিন্তু চলতি মৌসুমে আলু সংগ্রহের শুরুতেই মার খাচ্ছেন কৃষকেরা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৭-৮ টাকায়। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বাড়তে পারে আলুর দাম। তানোর পৌর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে আলু বিক্রি হয়েছে ১৩ টাকা কেজি দরে। এখন বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। পাইকারিতে দাম আট টাকা কেজি। কৃষকেরা আরো কম দামে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। সুতরাং লাভ তো হবেই না, উল্টো লোকসান হবে কৃষকদের।
চিমনা গ্রামের আলুচাষি আবুল কাসেম তিনি বলেন, প্রতি বছর ৪০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করি। এবারো চাষ করেছি। বর্তমানে আলুর যে দাম তাতে লোকসান হবে। তিনি বলেন, আমি আরো ১৫-২০ দিন পর আলু তোলা শুরু করব। এখন বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাত-আট টাকা কেজি দরে। এভাবে দাম কমে যাবে তা ভাবা যায়নি। লাভের আশায় আলুচাষ করে দেখছি বিপুল টাকা লোকসান গুণতে হবে।
তানোর পৌর সদরের আলু চাষি আলাউদ্দিন জানান, গত বছর ৫০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর বীজ সঙ্কট ও দাম বেশি হওয়ায় ১০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। প্রতি কেজি আলুতে উৎপাদন খরচ এবার ১২ টাকা পড়েছে আর বিক্রি হচ্ছে আট টাকায়।
যারা জমি বর্গা নিয়ে আলুচাষ করেছেন তাদের লোকসান আরো বেশি হবে। প্রতি বিঘা আলুর জমিতে হাল-চাষ, সার, কীটনাশক, সেচ সবমিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। আর আলু উৎপাদন হয় ৬০ কেজি করে ৬০ থেকে ৭০ বস্তা। লালপুর গ্রামের আলুচাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ-ছয় টাকা দামে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে না।
ব্যাপকভাবে আলু তোলা শুরু হলে আলুর দাম আরো কমে যাবে। কৃষি বিভাগ ঋণ দেয় না। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলুচাষ করেছি। এবার আলুর দামে ধরা খেলে ঋণ শোধ করব কিভাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিউল ইসলাম বলেন, তানোরে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি আলুর চাষ হয়। আলুর দাম কিছুটা কমে গেছে। এখনো পুরোদমে আলু উত্তোলন শুরু হয়নি। তিন সপ্তাহের মধ্যে বেশির ভাগ সংগ্রহ শুরু হবে। তিনি বলেন, কোল্ড স্টোরেজে আলু যেতে শুরু করলে বাজারে আলুর দাম বাড়বে। এখন যেসব আলু সংগ্রহ করা হচ্ছে তা খাওয়ার জন্য। তবে প্রান্তিক কৃষকরা আলুর দাম কিছুটা কম পাবেন।
