শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন -
হোম গ্রামগঞ্জতানোর পৌরসভায় শোয়া ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ দায় নিবে কে...

তানোর পৌরসভায় শোয়া ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ দায় নিবে কে ?

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় ‘নগর উন্নয়ন অবকাঠামো’ প্রকল্পের প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ দায় নিবে কে ?

সম্প্রতি মেয়র ইমরুল হকের বিরুদ্ধে টেন্ডার আহবানে অনিয়মের অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারগণ উচ্চ আদালতে রিট করেন। এতে আদালত অনিদ্রিষ্ট কালের জন্য ওই টেন্ডার কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে পৌরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে সরকার দলীয় প্রার্থী ইমরুল হককে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে বিজয়ী করেছিলাম। নির্বাচনের সময় মেয়র প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি বিজয়ী হলে পৌরসভায় ৫শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হবে। কিন্ত্ত কি দেখলাম ‘বিসমিল্লায় গলদ’ মাত্র সোয়া ৪ কোটি টাকার প্রথম টেন্ডারেই ঘাপলা। অথচ মেয়রের ঘাপলার দায় আমরা নাগরিকগণ কেনো নিবো, তার কারণে আমরা পৌরবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত হতে পারি না, আমরা স্থানীয সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় ঠিকাদারগণের অভিযোগ, মেয়র তার পচ্ছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে গত ১২ অক্টোবর গোপণে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান এবং অপ্রচলিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। যেই পত্রিকা রাজশাহী অঞ্চলেই আসে না। ফলে কেউ জানতেই পারেনি টেন্ডার আহবানের কথা। অথচ অগ্রাধিকার ভিত্তিত্বে হোয়াইট প্রেসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে তানোর পৌরসভায় লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে ঠিকাদারেরা লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। ঠিকাদারদের অভিযোগ, মেয়র ইমরুল হক তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে পুরোনো নিবন্ধিত ঠিকাদারদের লাইসেন্স হালনাগাদ (নবায়ন) বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পৌরসভা লাইসেন্স নবায়ন ফি’র প্রায় ১২ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই ঘটনায় মেয়র-ঠিকাদারগণ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুত্র জানায়, তানোর পৌরসভায় গত ১২ অক্টোবর গোপণে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু এই পৌরসভার নিবন্ধিত ঠিকাদারদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ। ফলে তাঁরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কাজ পাবেন কে ?

ঠিকাদার আতিকুর রহমান লিটন জানান, লাইসেন্স হালনাগাদ না করার বিষয়ে । লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাঁরা কয়েকজন ঠিকাদার মেয়র ইমরুল হকের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর দপ্তরে যান। অভিযোগ দেওয়ার কারণে তাঁদের দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মেয়র। অশালীন আচরণ শুরু করেন। একজন ঠিকাদার মোবাইল ফোনে মেয়রের এ ধরনের আচরণের ভিডিও শুরু করেন। তখন মেয়রের নির্দেশে তার উপস্থিতিতে এক কর্মচারী এসে তাঁদের লাঞ্ছিত করেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে দুপুরে তাঁরা স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে যান।ঠিকাদার আতিকুর আরও বলেন, ‘আমাদের লাইসেন্স নবায়ন করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দিলে অন্তত ১২ লাখ টাকা রাজস্ব পাবে পৌরসভা। এই টাকা না নিয়ে মেয়র কার স্বার্থে আমাদের লাইসেন্স নবায়ন করে দিচ্ছেন না সেটাই আমাদের প্রশ্ন।’ ভুক্তভোগী ঠিকাদারেরা জানান, তানোর পৌরসভার নিবন্ধিত ঠিকাদার ৬৫ জন। জুন মাসে তাঁদের সবার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর তাঁরা লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে তখন দেওয়া হয়নি।

মেয়র বলেছিলেন, এখন পৌরসভায় কাজ নেই। কাজ শুরু হওয়ার আগেই লাইসেন্স হালনাগাদ করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ১২ অক্টোবর ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ অক্টোবর। দরপত্রে অংশ নিতে হলে ঠিকাদারদের লাইসেন্স হালনাগাদ থাকতে হবে। কিন্তু তানোর পৌরসভার নিবন্ধিত কোনো ঠিকাদারের লাইসেন্স হালনাগাদ নেই। হালনাগাদের জন্য তাঁরা পৌরসভায় বারবার গেলেও দেওয়া হচ্ছে না। শতভাগ জরিমানা দিতে ঠিকাদারেরা রাজি হলেও লাইসেন্স হালনাগাদে রাজি হননি মেয়র ইমরুল হক।

ঠিকাদারেরা আরও জানান, নগর উন্নয়ন অবকাঠামোর এই প্রকল্পে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ আছে। মোট ছয়টি গ্রুপে কাজ হবে। তাঁদের আশঙ্কা, মেয়র ইমরুল হক তাঁর পছন্দের লোককে কাজ দিতে চায়। এই জন্য পছন্দের ঠিকাদারকে লাইসেন্স করে দেওয়া হবে নতুন করে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই মেয়রের পছন্দের ঠিকাদার কাজ পাবেন। আর এতে হবে বড় ধরনের দুর্নীতি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, অভিযোগের কপিটি এখনো তাঁর দেখা হয়নি। তবে বিষয়টি দেখবেন। এ বিষয়ে যত দূর করা যায়, তিনি করবেন।

তানোর পৌরসভার মেয়র ইমরুল হক বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে মোবাইলে কোনো কথা বলব না। অফিসে আসেন, কথা হবে। প্রসঙ্গত, গত বুধবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইয়াসিন আলী, মেসার্স রোজ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম ও মেসার্স মাহী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান লিটন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর উপপরিচালককে এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকেও দেওয়া হয়েছে।

আলিফ হোসেন

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular