ডেস্ক এডিটরঃ ফড়িং লাল, সবুজ, হলুদ, কমলাসহ অনেক মিশ্র রঙের ও হয়ে থাকে। রং ও সৌন্দর্যে অতুলনীয় বৈচিত্র্যময় ফড়িং আমাদের মনকে করে আকৃষ্ট।
গবেষকদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় ৫ হাজার ৭শ’ প্রজাতির ফড়িং দেখা যায়। ওডোনাটা বর্গভূক্ত এবং এপিপ্রোকটা উপ-বর্গের পতঙ্গ ফড়িং এর চোখ বেশ বড়।
ফড়িং এর রয়েছে চারটি স্বচ্ছ পাখা। এ পাখনার সাহায্যে ফড়িং উড়ে বেড়ায়। প্রজাতি ভেদে ২৫ থেকে ৩৫ কিলো মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। লেজের দিকটা লম্বা ও চিকন। মাথা বেশ মোটা। ফড়িং এর ছয়টি পা থাকলেও এরা হাটতে পারে না। পায়ে ছোট ছোট কাটার মতো থাকে। এগুলোর সাহায্যে ফড়িং অনায়াসে ছোট ছোট ঘাস লতা পাতা খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বসতে পারে। মশা, পিঁপড়া, মাছি মৌমাছিসহ অন্যান্য ছোট ছোট পোকা মাকড় শিকার করে খায়। ফড়িং পানিতে জন্মে। পূর্ণ বয়ষ্ক ফড়িং পানিতে ডিম পারে এবং পানিতেই এর বাচ্চা (নিম্ফ) হয়। বাচ্চাগুলো বড় হয়ে ডাঙ্গায় উঠে আসে। তাই পানির কাছা কাছি ফড়িং বেশি দেখা যায়।
আমাদের দেশে এক সময় শতাধিক প্রজাতির ফড়িং থাকলেও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ক্রমশই তা কমে আসছে। পরিবেশবান্ধব ছোট জীব ফড়িং ও এর বাচ্চা জলাশয়ের পোকা মাকড় ও মশার লার্ভা খেয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের পরিবেশকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। পূর্ণ বয়ষ্ক ফড়িং উড়ন্ত অবস্থায় শিকার করে। ফড়িং একাধারে বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষতিকর মশা দমন, ফসলের ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও ভূমিকা রাখে। জনশ্রুতি রয়েছে, যে এলাকায় যত বেশি ফড়িং সে এলাকার পরিবেশ ও তত ভালো। উপকারের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন দেশে ফড়িং সংরক্ষণ করা হয়। সৌন্দর্যের কারণে জাপানী শিল্পকলায় ফড়িং জনপ্রিয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন।আনন্দ-বেদনায়,সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়।আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন গ্রামীণ কৃষিতে। আজই পাঠিয়ে দিন – grameenkrishi2016@gmail.com

