- বিজ্ঞাপন -
হোম বিনোদনশুভ জন্মদিন..... ডলি জহুর

শুভ জন্মদিন….. ডলি জহুর

হৃদয় সাহাঃ এইসব দিনরাত্রির একান্নবর্তী মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় বউ ‘নীলু ভাবী’, সবাইকে নিয়ে যার দু:খ সুখের সংসার কিংবা শঙ্খনীল কারাগারের ‘বড় আপা’, অসুস্থ মায়ের সংসারে ছোট ভাই বোন দের কাছে যিনি মাতৃসম বড় বোন।

‘জননী’ নাটকে শুধুই সন্তানদের মা নয়, বিপদের দিনে পরিবারের হাল ধরে। আগুণের পরশমণিতে মুক্তিযুদ্ধ সময়কার এক পরিবারের কর্ত্রী, যে মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দেয়।

টেলিভিশন নাটক ই হউক বা চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই তিনি অভিনয়ের দ্যূতি ছড়িয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, বিশেষ করে মমতাময়ী মায়ের চরিত্রে বিশেষ ভাবে সমাদৃত, তিনি মঞ্চ, নাটক ও চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ‘ডলি জহুর’।

সত্তর দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময়েই নাট্যদলে যুক্ত হন। প্রগৌতাহাসিক, ইবলিশ, ময়ুর সিংহাসনের মত সফল মঞ্চ নাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করা শুরু করেন।

প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৮৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’তে নীলু ভাবীর চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে।

ছবিতেঃ ডলি জহুর ও স্বামী জহুরুল ইসলাম। সময়কালঃ ৫ই নভেম্বর ১৯৭৬।

নীলু ভাবী চরিত্রটি এইদেশের মধ্যবিত্ত সমাজের সাথে এতটাই মেলবন্ধন ঘটেছিল যে, বিয়ের জন্য পত্রিকার বিজ্ঞাপনে বলা হত ‘নীলুর মত মেয়ে চাই’!।

হুমায়ূন আহমেদের জননী নাটকে প্রধান ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন,এছাড়া একদিন হঠাৎ,মাটির পিঞ্জিরার মাঝে তো রয়েছেই।

আবুল হায়াতের সঙ্গে জুটিটা দর্শকদের বেশ পছন্দের। এরা অনেক নাটক- সিনেমায় একে অন্যের বিপরীতে যেমন অভিনয় করেছিলেন তেমনি বাবা- মেয়ের চরিত্রেও। আবুল হায়াত ই আবার তাকে উপহার দেন দারুণ নাটক ‘মধাহ্ন ভোজ কি হবে?’।

শাহনাজ খুশীর সঙ্গে মামুনুর রশীদের নাটক ‘ঝগড়ালী’ তে ঝগড়ার দৃশ্য তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়, অন্যান্য নাটকের মধ্যে শোধবোধ, ঘরের খবর পরের খবর, মাগো তোমার জন্য, নয়ন, আমার বউ সব জানে অন্যতম। শুরুর দিকে মমতাময়ী মায়ের চরিত্র বেশি করলেও পরে কড়া মায়ের চরিত্র ই বেশি করতেন।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস অবলম্বনে বিটিভির প্রযোজনায় নির্মিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ এ রাবেয়ার চরিত্রে অসামান্য অভিনয় দর্শকদের চোখে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

তখনকার দাপুটে সব সিনেমার নায়িকাদের হারিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আগুণের পরশমণি’তেও মায়ের চরিত্রে উনাকে নির্বাচিত করেছিলেন। ততদিনে বানিজ্যিক ধারার ছবিতে নিয়মিত অভিনেত্রী হয়ে গেছেন ডলি জহুর, নব্বই দশকে মায়ের চরিত্রে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। আনন্দ অশ্রুতে দুলির মা, লাভ স্টোরিতে মানসিক প্রতিবন্ধীকে আপন করে নেয়া, দেশপ্রেমিক সিনেমায় একজন ব্যর্থ চিত্রপরিচালকের স্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষণিকের জন্য হলেও সমুজ্জ্বল ছিলেন।

বিশেষ করে বলতে হয় নায়ক রাজ রাজ্জাকের ‘বাবা কেন চাকর’ ও ‘সন্তান যখন শত্রু’ সিনেমায় অভিনয়ের কথা,দুইটি ছবিতেই তিনি নিজের অভিনয়ের দক্ষতার দারুণ প্রমাণ দিয়েছিলেন।

‘অনেক দিনের আশা’ না দেখলে বুঝাই যাবে না যে, তিনি খল চরিত্রেও পারদর্শী। অবশ্য নিজের প্রথম সিনেমা ‘অসাধারণ’ তেও ছিলেন একই চরিত্রে। শূন্য দশকে চলচ্চিত্রে অস্থিরতা নেমে এলে অভিনয় কমিয়ে দেন তবুও মনের টানে বারবার ফিরে এসেছেন নিজের আপন জগতে।

নিরন্তর সিনেমায় তিথির মা,দারুচিনি দ্বীপে শুভ্রর মা কিংবা ঘানি সিনেমায় কলুর বলদ টানা মা, যেই সিনেমার জন্য দ্বিতীয় বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

বেশকিছু বানিজ্যিক সিনেমা করলেও আলোকিত হতে পারেন নি,তবে নামের কারনে ‘মা বড় না বউ বড়’ বেশ আলোচিত হয়েছিল। অকাল প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ র সঙ্গে উনার ভালো সম্পর্ক ছিল। টিভি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে সালমানের অভিনয়ে বেশিরভাগ সময়েই মা থাকতেন ডলি জহুর, সেই থেকেই মাতৃ-ছেলে সম্পর্ক ছিল।

সিনেমাতেও চাওয়া থেকে পাওয়া,স্বপ্নের নায়ক,বিচার হবেতে ছিলেন তারা। আরো উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রং নাম্বার, এবাদত, হৃদয়ের কথা, স্নেহের প্রতিদান, পৃথিবী তোমার আমার, শান্ত কেন মাস্তান, পাহারদার অন্যতম।

চলচ্চিত্রে আর অভিনয় করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে মাঝেমধ্যে নাটকে অভিনয় করছেন। ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী অভিনেত্রী

আজ পেরোচ্ছেন ৬৮ বছর, রইলো শুভকামনা। শুভ জন্মদিন….. ডলি জহুর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular