নগর জীবনে সীমিত জায়গার মধ্যেও কৃষিকে এগিয়ে নিতে মালসা বা বড় পাত্রে কলা চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশিষ্ট কৃষি লেখক ও গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ঘরের ছাদ, বারান্দা কিংবা আঙিনায়ও সফলভাবে কলা উৎপাদন সম্ভব।
তিনি জানান, মালসায় কলা চাষের জন্য ৫০-৮০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ড্রাম, সিমেন্টের টব বা মাটির পাত্র ব্যবহার করা উচিত, যার নিচে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাটি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বেলে দোঁআশ মাটির সঙ্গে পচা গোবর, বালি ও ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে উর্বর মাধ্যম তৈরি করতে হয়। অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য হাড়ের গুঁড়া ও ছাই ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।
চারা রোপণের সময় রোগমুক্ত সাকার বা টিস্যু কালচার চারা নির্বাচন করা জরুরি। প্রতিটি পাত্রে একটি করে গাছ লাগাতে হবে এবং নিয়মিত সেচ দিতে হবে, তবে পানি জমে থাকা যাবে না। গাছের জন্য প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা সূর্যালোক নিশ্চিত করতে হবে এবং ঝড়ো বাতাস থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। শুরুতে জৈব সার প্রয়োগের পর ধীরে ধীরে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি প্রয়োগ করলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মোচা আসার সময় এবং ফল বড় হওয়ার পর্যায়ে অতিরিক্ত পুষ্টি সরবরাহ করলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
পরিচর্যার অংশ হিসেবে শুকনো পাতা অপসারণ, অতিরিক্ত চারা নিয়ন্ত্রণ এবং নিম তেল স্প্রে করে পোকা দমন করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক যত্ন নিলে ৮ থেকে ১২ মাসের মধ্যে একটি গাছ থেকে একটি পূর্ণ থোকা কলা পাওয়া সম্ভব।
লেখকঃ কেন্দ্রীয় সভাপতি - বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক - বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা - দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক
সাধারণ সম্পাদক - আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।
