শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
- বিজ্ঞাপন -
হোম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ-নক্ষত্র (প্রাণী আছে কি?)

পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ-নক্ষত্র (প্রাণী আছে কি?)

অধ্যাপক ড.হোসেন মনসুর

সূর্যসহ সূর্যের চারদিকে গ্রহ উপগ্রহ সবাইকে সবাইকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি পরিবার, যার নাম সৌরজগৎ। আমাদের নিকটতম নক্ষত্রের নাম সূর্য। নিকটতম বললেও পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ৯৩,০০০,০০০ মাইল। সূর্যের পরে নিকটতম নক্ষত্র সিস্টেমের নাম আলফা সেন্টোরি তারা সিস্টেম, গড়ে প্রায় ৪.৩ আলোকবর্ষ দূরে। প্রকৃতপক্ষে, আলফা সেন্টোরি তারা সিস্টেমে দুইটি তারাই প্রধান, আলফা সেন্টোরি A এবং আলফা সেন্টোরি B। এ দু’টি অনেকটাই দ্বৈত জোরা তারা। এ সিস্টেমে তৃতীয় আর একটি তারা আছে, যার নাম প্রক্সিমা সেন্টোরি। প্রক্সিমা সেন্টোরি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২২ আলোকবর্ষ দূরে। তাই, প্রক্সিমা সেন্টোরিই হল, পৃথিবী থেকে সূর্যের পরে দ্বিতীয়তম নক্ষত্র। আলফা সেন্টোরি A এবং B দু’টি তারার মাধ্যাকর্ষণের একটি সাধারণ কেন্দ্র আছে। এই তারা দু’টি ওই সাধারণ কেন্দ্রের চারদিকে ঘূর্ণন করে এবং একপাক দিতে ৮০ বছর সময় লাগে। দু’টি তারা একে অন্যের থেকে প্রায় ২৩ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে অবস্থিত। প্রক্সিমা সেন্টোরি ওই দু’টি তারা থেকে ১৩,০০০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে অবস্থিত। তাই অনেকের প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে এত দূরের তারাকে প্রক্সিমা সেন্টোরিকে আলফা সেন্টোরি তারা সিস্টেমের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক কিনা। প্রক্সিমা সেন্টোরি হয়তো তারা সিস্টেমের একপাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছে, হয়তো কয়েক মিলিয়ন বছর পরে কোনদিন ওই এলাকা ছেড়ে চলেই যাবে। আর যদি দ্বৈত জোরা তারার সাথে মাধ্যাকর্ষণের কারণে বাধা পায় এবং ওদের অংশ হয়ে যায়, তবে ওই দু’টি তারা্ আলফা সেন্টোরি A এবং B-এর চার পাশে প্রদক্ষিন করতে ৫৫০,০০০ বছর সময় লাগবে।

প্রক্সিমা সেন্টোরি দক্ষিন আকাশের সেন্টোরাস নক্ষত্রপুঞ্জের স্বল্প ভরের ক্ষুদ্র তারা। ১৯৯৫ সালে রোবার্ট ইয়েনে তারাটি আবিস্কার করেন। এটা একটি লাল বামন তারা। সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেও আকারে ছোট হওয়ার কারণে খালিচোখে দেখা যায় না। তারাটির ভর সূর্যের ভরের আট ভাগের একভাগ এবং ঘনত্ব সূর্যের চেয়ে ৩৩ গুণ বেশী। প্রক্সিমা সেন্টোরির ব্যাস সূর্যের ব্যাসের সাত ভাগের একভাগ। প্রক্সিমা সেন্টোরির ঔজ্জ্বল্য কম হলেও এটা একটি জ্বলন্ত তারা; চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে ঔজ্জ্বল্য নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিচলনের মাধ্যমে চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি হয়; আর দাঊ দাঊ করে জ্বলে সূর্য যেমন রঞ্জনরশ্মি বিকিরণ করে তেমনিভাবেই প্রক্সিমা সেন্টোরি রঞ্জনরশ্মি বিকিরণ করতে থাকে। প্রক্সিমা সেন্টোরির কোরে পরিচলনের মাধ্যমে জ্বালানির সংমিশ্রণ হয় এবং শক্তি উৎপাদনের হার কম বিধায় ধারণা করা যায় যে তারাটি মেইন সেক্যুয়েন্সের তারায় পরিনত হতে আরোও চার হাজার ট্রিলিয়ন বছর লাগবে।

প্রক্সিমা সেন্টোরি তারার দু’টি গ্রহ আছে। ২০১৬ সালের প্রথমদিকে প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি গ্রহটি আবিস্কারের ঘোষণা আসে। বলা হয়, প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি নামক একটি গ্রহ পৃথিবীর দিন হিসেবে ১১.২ দিনে ৭.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর থেকে প্রক্সিমা সেন্টোরি তারাকে প্রদক্ষিন করছে। প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি গ্রহের ভর আমাদের আমাদের পৃথিবীর মতই, মাত্র পৃথিবীর চেয়ে ১.১৭ গুণ বেশি। প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি গ্রহটি প্রক্সিমা সেন্টোরি তারার বাসযোগ্য পরিসরে অবস্থান করছে। তাপমাত্রা এমন যে, গ্রহপৃষ্ঠে তরল পানি থাকতে পারে বলে ধারণা করা যায়। কিন্তু যেহেতু প্রক্সিমা সেন্টোরি জ্বলন্ত একটি লাল বামন তারা, সেহেতু প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি গ্রহপৃষ্ঠে বাসযোগ্যতার বিষ্যটি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, লাল বামন তারা স্থিতিশীল নয়। প্রাথমিক অবস্থায় বেশ তেজস্ক্রিয় থাকে। এই তেজস্ক্রিয়্তা নিকটবর্তী গ্রহেও যেতে পারে এবং বায়ুমণ্ডলের অণুগুলোকের ভেঙ্গে ফেলতে পারে। ফলে, সময়ের সাথে সাথে বায়ুমণ্ডল পাতলা থেকে পাতলা হতে থাকে। বাসযোগ্য গ্রহ না হওয়ার পেছনে আরোও যুক্তি আছে। তা’হল, গ্রহটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিন করে আমাদের চাঁদের মত। চাঁদ যেমন একই পৃষ্ঠ সূর্যের দিকে মুখ করে প্রদক্ষিন করে, তেমনি, প্রক্সিমা সেন্টোরি-বি গ্রহটিও একই পৃষ্ঠ তার নক্ষত্রের (প্রক্সিমা সেন্টোরির) দিকে মুখ করে প্রদক্ষিন করে। ফলে, এই গ্রহের একটি পৃষ্ঠ প্রক্সিমা সেন্টোরির আলো বা তাপ পেয়ে অত্যন্ত গরম থাকে, অন্য পৃষ্ঠ নক্ষত্রের তাপ পায় না জন্য অত্যন্ত ঠাণ্ডা থাকে। এমন গ্রহপৃষ্ঠে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা বিতর্কিত।

২০১৯ সালে প্রক্সিমা সেন্টোরি তারার প্রক্সিমা সেন্টোরি-সি নামক আরোও একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে নূতন গ্রহ প্রক্সিমা সেন্টোরি-সি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরোও অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

প্রক্সিমা সেন্টুয়ারি-বি গ্রহে মানুষের পক্ষে যাওয়া কি সম্ভব? তাহলে দেখা যাক তার সম্ভাব্যতা কতটুকু। কোন মানুষ যদি পৃথিবী থেকে প্রক্সিমা সেন্টুয়ারি-বি গ্রহতে যেতে এমন যানবাহন ব্যবহার করে যার গতি প্রতি সেকেণ্ডে ১৭.৩ কিলোমিটার, তবে গ্রহে পৌছতে তার সময় লাগবে ৭৩,০০০ বছর। আর যদি সে আলোর গতি সম্পন্ন গতির বাহনে যায় (যা আইনস্টাইনের বিশেষ তত্ত্ব অনুযায়ী সম্ভব নয়), তবে পৌছতে সময় লাগবে ৪.২২ বছর। (উৎস-উইকিপেডিয়া/টিম শার্প ও নাসা)।

লেখকঃ সাবেক অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবেক চেয়ারম্যান পেট্রোবাংলা।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- বিজ্ঞাপন -

Most Popular

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামীণ কৃষি সম্পাদকের ঈদের শুভেচ্ছা

গ্রামীণ কৃষি ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মুসলিম উম্মাহ, সুশীল সমাজ ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসীদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন...

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ঈদের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং সম্মিলিত...

রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে অটিজম শিকার ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সকলের সঙ্গে অটিজম ও প্রতিবন্ধিতার শিকার...

উপজাতীয় শরণার্থী টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

সুদত্ত চাকমা উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) নিযুক্ত লাভ করায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর...

Recent Comments