শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
- বিজ্ঞাপন -
হোম শিক্ষাঙ্গণ গাছে কী ভূত থাকে?

গাছে কী ভূত থাকে?

ইজাজ আহমেদ

গাছ মানুষের পরম বন্ধু। মানুষের বেঁচে থাকার মূল উপাদান অক্সিজেনের যোগানদাতা গাছ। গ্রামাঞ্চলে কোথায় কি গাছ লাগাতে হবে তা নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

সাধারণভাবে তেঁতুল, শেওড়া, বট, অশ্বথ, পাকুড় ইত্যাদি ধরণের বেশি পাতা বিশিষ্ট্য বড় কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় লাগাতে চায় না। এসব বৃক্ষ সাধারণত খোলা মাঠে অথবা হাট বাজারে লাগানো হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে যখন পথচলা, মাঠে কাজ করা কষ্টকর তখন এ ধরনের ঘন পল্লববিশিষ্ট গাছের তলায় আশ্রয় নিয়ে পথিক, কৃষক স্নিগ্ধ মনোরম শীতল বাতাসে দেহ ও মনের ক্লান্তি দূর করে। আবার একই গাছের তলায় রাতের বেলায় বিশ্রাম নিতে গেলে শীতল বাতাসের পরিবর্তে গরম বাতাস ও বুকে চাপাভাব অনুভূত হয়।

রাতে দীর্ঘসময় ঘন পল্লব বিশিষ্ট গাছের নিচে অবস্থান করলে বুকে চাপাভাব অনুভূত হয়। দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসকষ্টের ফলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। তাই এক ধরনের ভ্রান্ত কিংবদন্তী গ্রাম বাংলার মানুষ নিবিড়িভাবে আকড়ে ধরে আছে তা হলো এসকব গাছে ভূত থাকে। শুধু গ্রাম বাংলার মানুষ না অনেক শিক্ষিত শহুরের মানুষের মধ্যেও এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা পরিলক্ষিত হয়। তবে ভূত থাকার এ ধারণার পেছনেও কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক কারণ দিনের বেলা সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিল, সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন-ডাই-আক্সাইড সহযোগে শর্করা উৎপন্ন করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। সূর্যের আলোয় এ খাদ্য উৎপন্ন করাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।

এই খাদ্য প্রস্তুত প্রণালীতে গাছ অক্সিজেনকে উপজাত হিসেবে ত্যাগ করে। যেহেতু গাছের পাতা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে তাই গাছ যত ঘন পল্লব বিষিষ্ট হবে এই প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুতের সাথে বাতাসে অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প তত বেশি ছড়াবে। জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের প্রভাবে গাছের নিচে পারিপার্শিক অবস্থান থেকে ভিন্ন হয়। তাই ঘন পল্লব বিষিষ্ট গাছের ছায়া গ্রীষ্মের দুপুরে অধিক শীতল থাকে। জীবদেহে যেমন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়া সর্বক্ষণ চালু থাকে তেমনই উদ্ভিদ দেহেও শ্বসন প্রক্রিয়া সর্বক্ষণ চালু থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়া যৌগিক খাদ্য দ্রব্যকে ভেঙ্গে সরল দ্রব্যে পরিণত করে আর শক্তি উৎপন্ন করে। শসনের ফলে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং বৃক্ষ প্রাণীর ন্যায় বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় করে। শ্বসন প্রক্রিয়া দিন রাত চালু থাকে আর সালোক সংশ্লেষণ শুধুমাত্র সূর্যালোক থাকাকালে চালু থাকে তাই রাত্রিকালীন সময়ে গাছ শ্বসনের মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে যে অক্সিজেন বাতাসে ছেড়েছিলো সেটা সহ বাতাস থেকে অক্সিজেন টেনে নেয় এবং বিপুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়ে। যে গাছের পাতা বেশি সে গাছে এ প্রক্রিয়া বেশি। কার্বন-ডাই-অক্সাইড দূষিত গ্যাস।

রাতে গাছের নিচে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচে অবস্থানকারী ব্যাক্তি অক্সিজেনের তুলনায় অধিক হারে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃশ্বাসে গ্রহণ করে।ফলে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট হয়। ঘন পল্লবিত গাছের নিচে রাতের বেলায় অক্সিজেনের পরিমাণ অস্বাভাবিক ভাবে কম হওয়ায় গাছের নিচে অবস্থানকারীর প্রাথমিকভাবে শ্বাসকষ্ট হবে ও দীর্ঘকালীন অবস্থানে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। এই হলো বড় গাছে ভূত থাকার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- বিজ্ঞাপন -

Most Popular

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামীণ কৃষি সম্পাদকের ঈদের শুভেচ্ছা

গ্রামীণ কৃষি ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মুসলিম উম্মাহ, সুশীল সমাজ ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসীদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন...

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ঈদের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং সম্মিলিত...

রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে অটিজম শিকার ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সকলের সঙ্গে অটিজম ও প্রতিবন্ধিতার শিকার...

উপজাতীয় শরণার্থী টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

সুদত্ত চাকমা উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) নিযুক্ত লাভ করায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর...

Recent Comments